দল ক্ষমতায় গেলেই এক শ্রেণির সুবিধাবাদী মানুষের তৎপরতা বেড়ে যায়, যারা নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। দলের ভেতর এমন অসংগতি রোধে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত নয়টার দিকে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মরহুম আনিছুর রহমান লাকুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। যখন দল ক্ষমতায় যায়, তখন নিবেদিত অনেক কর্মী আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে যায়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামুসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রী বলেন, শুধু রংপুরে নয়, সারা দেশেই ক্ষমতার পালাবদলের সময় এই হাইব্রিড ও সুবিধাবাদীদের আনাগোনা বাড়ে। তারা দলকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, কিন্তু বিপদের সময় তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার দল যদি কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হয়, এদের আর দেখা পাওয়া যাবে না।
নেতাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, যারা গত সতেরো বছর রাজপথে ছিল না, তাদের এখন বিভিন্ন তদবির বা সুপারিশ নিয়ে আসা হচ্ছে। অনেকে নিজের পরিচয়ের চেয়ে বরং আত্মীয়তার সম্পর্ক বা ‘খালাতো ভাইয়ের ছোট ঘরের অমুক’ এমন পরিচয় দিয়ে সুপারিশ নিয়ে আসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সুপারিশ শোনার আগে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তিনি বলেন, যখন কেউ তদবির নিয়ে এসে অভিযোগ করেন যে তার কথা শোনা হয়নি, তখন আমি বলি আগে নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলুন, তারপর অন্য প্রসঙ্গ। এমন লোককে নিয়ে আসেন, যাকে আমি ১৭ বছর রাজপথে দেখিনি, চিনি না, জানি না। এই ১৭ বছর একটা জঞ্জাল ও বৈষম্য থাকার কারণে মানুষের আকাঙ্ক্ষা আছে, থাকবেই।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে দুলু বলেন, সরকারে আসার পর দলীয় সাংগঠনিক কর্মসূচি কিছুটা কমেছে ঠিকই, তবে প্রধানমন্ত্রী ও পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় সাত নভেম্বরসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সামনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। কখনো জ্বালানি, কখনো বিদ্যুৎ বা অটোরিকশার সংকটের মতো বিষয়গুলো নিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো অঘটন ঘটানোর পাঁয়তারা করছে।
পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকার মন্দিরে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সহায়তা করার নির্দেশ দেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি জানান, এবার মন্দিরগুলোতে গত ১০ বছরের তুলনায় অধিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো পূজাটি যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। স্মরণসভার শুরুতে মরহুম আনিছুর রহমান লাকুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং তার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সেগুলোর ব্যাপারে আমরা যেন সজাগ থাকি।’। এগুলো থেকে আপনাদেরও একটু সজাগ থাকতে হবে।