রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিকে দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই অর্থের ওপর ভিত্তি করেই অসংখ্য পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। তাই এ ধরনের হুমকি দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। রিজভী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে দেশের অসংখ্য পরিবারের ভরণপোষণ চলে। অনেক পরিবার বিদেশে থাকা স্বজনদের পাঠানো অর্থের অপেক্ষায় থাকে। রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, একটি পক্ষ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘কমল কুঁড়ি’ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি প্রশ্ন রাখেন, রেমিট্যান্স বন্ধের মতো অবাস্তব ও ক্ষতিকর হুমকি দেওয়ার বৈধতা কোথায়? তিনি আরও বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী নন। প্রবাসীদের মধ্যে নানা মতের মানুষ থাকলেও, রেমিট্যান্স বন্ধের মতো পদক্ষেপ নিলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ‘কমল কুঁড়ি’ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম ছাত্রদলকে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা আরও জোরালো করার আহ্বান জানান। তিনি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সাহিত্যের রসদ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আব্দুস সালাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মধ্যেও ছাত্রদল টিকে আছে। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিবর্তনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেখানে ছাত্রদলকে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে নতুন নেতৃত্ব গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যদিকে বিএনপি সব সময় রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও ছাত্রদল হারিয়ে যায়নি।
তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি, স্কুল স্তর থেকেই নেতৃত্বের বীজ বপন এবং মেধাবীদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত করতে হবে।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ‘কমল কুঁড়ি-জিয়া স্মৃতি পাঠাগার’-এর আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আদর্শ তাদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে ছাত্রদল। তিনি জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়েও হাতে লেখা চিঠি প্রতিযোগিতার মতো সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মননশীল চর্চাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।