ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে টানা তিন দিনের এক ব্যাপক সামরিক অভিযানের খসড়া তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এই পরিকল্পনার আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতের অবকাঠামো এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই প্রস্তাব এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে অপেক্ষায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ক্যাম্প ডেভিডে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে এই সম্ভাব্য হামলার রূপরেখা পর্যালোচনা করেছেন। এছাড়াও সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস একই ধরনের অভিযানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের কাছে ইরান কিংবা ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তাব মোট ছয়বার উত্থাপন করা হয়েছে। এর আগের পাঁচটি পরিকল্পনা তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলার জবাবে ইরান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পালটা হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, যুদ্ধের পুরো সময়টিতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার অনেকটাই নতুন করে গুছিয়ে নিয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় এসব মজুত ধ্বংসের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতিও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো ওই অঞ্চলে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের প্রক্রিয়া চলছে। ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন রণতরি বহরটি যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল ত্যাগ করে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এর ফলে সেখানে থাকা বিদ্যমান দুটি রণতরির সাথে নতুন করে এই শক্তি যুক্ত হবে।
তবে ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। গত বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর ভাষ্যমতে, গত সাত মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানে উভয় দেশের মধ্যে বর্তমানে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে। যদিও তাঁর এই বক্তব্যের সাথে ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনের বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরাইলকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে বড় ধরনের হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। সেই সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।