ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আগেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার আবাসিক এলাকায় ধ্রুব রাঠির বাসায় পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ অমান্য করে দিল্লি যাওয়ার চেষ্টা করায় তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে, পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যে, নিষেধাজ্ঞা না মানলে তাঁকে আটক করা হবে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, পুরো রাজধানী জুড়ে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ২৬ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ান মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাজধানীর সাধারণ মানুষের ভোগান্তির আশঙ্কায় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও, বিধিনিষেধের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে আসা ২৫০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা কয়েক শ মানুষকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে।
নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তাঁদের স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসবেন না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর অজুহাতে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলেও, মেট্রো ও ট্রেন চলাচল বন্ধের ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।