পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এসে পৌঁছেছে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় জ্বালানিবাহী লরিবহর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সব নীতিমালা অনুসরণ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই জ্বালানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি বিশেষ কার্গো বিমানে করে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ইউরেনিয়ামের এই চালানটি। সেখান থেকে শনিবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাবলয়ে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা দেয় গাড়িবহর। বহরের তিনটি লরিতে ইউরেনিয়াম এবং একটি গাড়িতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনা হয়েছে। এই বহরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরাও ছিলেন। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সক্রিয় ছিলেন।
প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ ও দ্বিতীয় ইউনিট চালু করার জন্য রাশিয়া থেকে মোট নয়টি চালানে এই জ্বালানি দেশে আসবে। আজ আসা চালানের পর আরও আটটি চালান আসার কথা রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন পরমাণু শক্তি কমিশন বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট এই প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে।
প্রস্তুতিমূলক সব কাজ ঠিকমতো সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস নাগাদ এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঘিরে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির সব পর্যায়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।