জার্মানির বিপক্ষে সাত গোল হজম করেছিল কুরাসাও। স্বাভাবিকভাবেই এরপর দলটির মানসিক অবস্থা তলানিতে যাওয়ার কথা। কিন্তু কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয়ে রুম যেনো সেটাকেই শিক্ষার মঞ্চ হিসেবে নিয়েছিলেন। আর সেই শিক্ষার পূর্ণ প্রয়োগ ঘটালেন ইকুয়েডরের বিপক্ষে। গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে রইলেন চীনের প্রাচীর হয়ে। একের পর এক ইকুয়েডরের আক্রমণ আটকে দিলেন তিনি। দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে হতাশ করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্টও তুলে নিল তারা।
আজ রোববার (২১ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে মুখোমুখি হয়েছিল ইকুয়েডর ও কুরাসাও। দুই দলের জমজমাট লড়াই শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়েছে।
কুরাসাওয়ের গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে এ ম্যাচে ১৫টি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন রুম। এতে নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়ও। বিশ্বকাপের একক কোনো ম্যাচে এটি যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেভ।
ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ চালায় ইকুয়েডর। পুরো ম্যাচে তারা ২৯টি শট নেয়, কিন্তু কুরাসাও গোলরক্ষক এলয় রুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি।
অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এনার ভ্যালেন্সিয়া বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ পেয়েও সফল হতে পারেননি। তার একাধিক শট রুখে দেন রুম। অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডরের আক্রমণের চাপ আরও বাড়লেও কুরাসাওয়ের রক্ষণ ছিল অবিচল।
শুধু রক্ষণেই নয়, পাল্টা আক্রমণেও ভয় দেখিয়েছে কুরাসাও। তাহিথ চং ও জুনিনহো বাকুনার নেতৃত্বে কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলে দলটি। ম্যাচের এক পর্যায়ে বাকুনার জোরালো শট ইকুয়েডর গোলরক্ষক হার্নান গালিন্দেস দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন।
দুই দলের মরিয়া চেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। ফলে পূর্ণ সময় শেষে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে ইকুয়েডর ও কুরাসাও। এই ফলাফলে নকআউট পর্বে ওঠার সমীকরণ কঠিন হয়ে গেছে ইকুয়েডরের জন্য। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট পেয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকল কুরাসাও।