মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২০২৭ সালের হজ: আবাসন ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম ও মানদণ্ড ঘোষণা সৌদি আরবের প্রেক্ষাপট: আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়ে জনগণ বলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলেন প্রশাসনের ২৭৭ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান ১২ মাসে ২৩ কেজি ওজন কমালেন নেহা ধুপিয়া: মায়েদের জন্য দিলেন বিশেষ বার্তা ঝিনাইদহের মহেশপুরে তিন মাস কাদায় আটকে থাকা চার মহিষ উদ্ধার করল প্রশাসন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৪০৯ প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে একযোগে বদলি প্রেক্ষাপট: সরকারি দপ্তর-সংস্থায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালু করা হবে: প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘের আল-কায়েদা বিষয়ক প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আল-কায়েদা বিষয়ক প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর, গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে শঙ্কা: কাটছাঁট না করার আহ্বান সরকারি কর্মচারী সমিতির

প্রতিবেদকের নাম

নবম জাতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সচিব কমিটির সুপারিশকৃত সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও যদি কাটছাঁট করা হয়, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ এবং দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতনের বিপরীতে এই হার কার্যকর হলে তা দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৫০০ টাকায়। সমিতির দাবি, অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির নজির রয়েছে। সেই তুলনায় বর্তমান প্রস্তাবটি অত্যন্ত অপর্যাপ্ত এবং এটি সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নবম পে স্কেল আসছে। তবে বেতন বৃদ্ধির আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সমিতির ভাষ্যমতে, নবম পে স্কেলে যে পরিমাণ বেতন বৃদ্ধির আভাস পাওয়া যাচ্ছে, দ্রব্যমূল্য তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি বেড়েছে। ফলে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়ের কোনো সামঞ্জস্য থাকছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সভায় কর্মচারীরা দুটি পে স্কেলের সমন্বয় করে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিলেন। অথচ সেই দাবির বিপরীতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে, যা নতুন করে বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন নেতারা।

বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও কমিয়ে দেয়, তবে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো ভারসাম্য থাকবে না। এতে সাধারণ কর্মচারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রে অস্থিরতা ও অভাব আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

পরিশেষে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যেন সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও বাড়ানো হয়। বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করে দ্রুত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের সংকট নিরসনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের বর্তমান আর্থিক অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল।

কিন্তু, এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

সংগঠনটির মতে, এর ফলে বৈষম্যের আরেকটি স্তর তৈরি হয়েছে।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ