২০২৭ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে হজযাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধিমালা ও শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ড অনুমোদন করেছে সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়। নতুন এই নিয়মের আওতায় হজযাত্রীদের আবাসন সুবিধাকে মূলত ‘ইকোনমি’ ও ‘ফার্স্ট ক্লাস’—এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আবাসন স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনসংক্রান্ত একটি তালিকাও চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রণালয়।
সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসর আল-আনসারি জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো আবাসনসেবার নিয়ন্ত্রক ও পরিচালন কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা। তিনি জানান, হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার আগে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত মানদণ্ড যথাযথভাবে পূরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে। নতুন এই মানদণ্ডে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাগত প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণের মান, জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা এবং বিধিনিষেধ মেনে চলার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আবাসন প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ব্যবহার্য স্থান, অতিথিকক্ষ, অভ্যর্থনা এলাকা, পরিচ্ছন্নতা এবং অতিথিসেবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তাবলি যুক্ত করা হয়েছে। ইকোনমি ও ফার্স্ট ক্লাস—উভয় শ্রেণির আবাসনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড ও শর্ত প্রযোজ্য হবে। নতুন বিধিমালায় আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকির জন্য একাধিক ধাপের পরিদর্শন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লাইসেন্স প্রদান, কার্যক্রম শুরুর আগে এবং কার্যক্রম চলাকালীন নিয়মিত বিরতিতে এই পরিদর্শন পরিচালিত হবে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, হজযাত্রীদের আতিথেয়তা প্রদান সৌদি আরবের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ এবং এটি একটি যৌথ জাতীয় দায়িত্ব। এই নতুন মানদণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে হজযাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ ও উন্নত আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে আবাসনসেবা দেওয়ার জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত নতুন শর্ত পূরণের কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রস্তুতিমূলক সব কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসনসেবায় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও মান আরও উন্নত হয়।