৪৫ বছর বয়সী নেহা ধুপিয়া জানিয়েছেন, প্রতিবার গর্ভাবস্থায় তাঁর ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ খানিকটা বেড়ে যেত। সাধারণত প্রসবের পর একজন নারীর ওজন প্রায় ১৭ কেজি পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিন্তু নেহার ক্ষেত্রে প্রতিটি গর্ভাবস্থায় ওজন প্রায় ২৩ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই বাড়তি ওজন নিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সচেতন ছিলেন, তবে সন্তান জন্মের পর নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেননি। মেয়ে মেহরের জন্মের পর করোনাকালে লকডাউনের সময় তিনি বাড়িতে থেকে খাবারের ক্যালরি কমিয়ে ওজন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন। কিন্তু এর পরপরই আবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় প্রায় চার বছর ধরে তাঁর ওজন বারবার ওঠানামার মধ্যে ছিল।
দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পরও নেহা সঙ্গে সঙ্গে ওজন কমানোর দিকে মন দেননি। তিনি জানান, তাঁর দুই সন্তানকেই তিনি এক বছর করে বুকের দুধ খাইয়েছেন। এ সময় ক্ষুধা বেশি লাগলেও শরীরে শক্তির মাত্রা কম থাকত, তাই সন্তানদের যত্ন নেওয়াই ছিল তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। নেহার কাছে এই শারীরিক পরিবর্তন শুধু বাহ্যিক নয়, বরং পেশাগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ওজন কমানোর পর তিনি নিজেকে অনেক হালকা, ঝরঝরে ও আত্মবিশ্বাসী মনে করছেন। আলমারিতে বছরের পর বছর বন্দী থাকা পুরোনো সব পোশাকই এখন তিনি আবার নতুন করে পরতে পারছেন, যা তাঁকে বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছে।
নেহার ওজন কমানোর পদ্ধতি কোনো কঠোর বা চরম ডায়েটের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। তিনি খাবারের ক্ষেত্রে সচেতন হয়েছেন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করেছেন। তাঁর খাদ্যতালিকা থেকে চিনি, ভাজাপোড়া খাবার ও গ্লুটেন বাদ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি দৌড়াতে ভালোবাসেন এবং মাঝেমধ্যে জিমেও যান। তবে খুব কঠোর কোনো ওয়ার্কআউট রুটিন তিনি অনুসরণ করেন না। নেহা সন্ধ্যা ৭টার দিকে সন্তানদের সঙ্গে রাতের খাবার খান এবং পরদিন বেলা ১১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে নাশতা করেন। এই সময়সূচি মূলত তাঁর জীবনযাপনের স্বাভাবিক অংশ, কোনো নির্দিষ্ট ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের উদ্দেশ্যে এটি করা হয়নি।
ওজন কমানোর সুফল সম্পর্কে নেহা বলেন, এটি শুধু আয়নায় নিজের পরিবর্তন দেখা নয়, বরং মানসিকভাবে আরও ভালো ও নির্ভার অনুভব করা। মায়েদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রসবপরবর্তী ওজন ঝরানো নিয়ে তাড়াহুড়া করবেন না। নিজেকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা না করে শরীরকে ধকল সামলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় দিন। সমাজ বা চারপাশের মানুষের কাছ থেকে শরীর নিয়ে আসা নানা ধরনের চাপের মুখে নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া সবচেয়ে জরুরি।
বলিউডের অন্য তারকাদের ক্ষেত্রেও এমন অভিজ্ঞতার নজির রয়েছে। যেমন, ছেলে ভিয়ান জন্মের সময় শিল্পা শেঠির ওজন প্রায় ৩২ কেজি বেড়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রায় ৩ মাসে ২১ কেজি কমিয়েছিলেন। আবার ছেলে বায়ুর জন্মের পর সোনম কাপুর প্রায় ২০ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছিলেন, তখন ১৬ মাসে ২০ কেজি ওজন ঝরিয়েছিলেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকে ১ বছরে ২৩ কেজি কমানোকে ‘টার্গেট’ হিসেবে অনুসরণ করা উচিত নয়। প্রসবের পর প্রত্যেক নারীর শরীর, হরমোন, স্তন্যদান, ঘুম, স্বাস্থ্য ও মেটাবলিজম আলাদা। তাই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ও নিরাপদে ওজন কমানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নেহার এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, ধৈর্য ও সঠিক জীবনযাত্রার মাধ্যমে সুস্থভাবে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।