রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এখন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের মুখমণ্ডলের বীভৎস অবস্থা তদন্তকারীদের বিশেষ ভাবনায় ফেলেছে। মরদেহের আশেপাশের এলাকায় এক ধরনের রহস্যময় তরল পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা কোনো শক্তিশালী রাসায়নিক কি না, তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
রোববার বিকেলে রংপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, নিহতদের মুখমণ্ডল অস্বাভাবিক ও বীভৎস অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে পাওয়া তরল পদার্থের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরেনসিক প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত এটি কোনো রাসায়নিক প্রয়োগের ফল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে তদন্তের স্বার্থে প্রতিটি আলামত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
শনিবার গভীর রাতে নিজ বাসভবন থেকে এই চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল, এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনরা বাড়িতে কোনো সাড়া না পেয়ে এবং পচা গন্ধ অনুভব করে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনার ভয়াবহতা প্রকাশ্যে আসে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাতে ওই দুই তরুণ পাশের একটি ভবনের ছাদ টপকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। শব্দ শুনে গৃহকর্তা গণপতি চক্রবর্তী তাদের বাধা দিলে তাকে আক্রমণ করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের চিনে ফেলায় পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে সবাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ, ব্যবহৃত পদ্ধতি এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া তরল পদার্থের রাসায়নিক প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তকারীরা ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই প্রতিবেদনটিই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রীতিলতা চক্রবর্তী তাঁর ছোট বোনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুখের আশপাশে কিছু তরল পদার্থও পাওয়া গেছে।