স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তবে বিশেষ প্রয়োজনে তা অক্টোবরেও গড়াতে পারে। কমিশন চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠকে নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি জানান, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়েছে।
নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হচ্ছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, সামনে দুর্গোৎসব ও বিভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে। বিশেষ করে নভেম্বরে যাতে বার্ষিক পরীক্ষা না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানাবে ইসি। বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বরে না হলে ডিসেম্বর থেকেই স্থানীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু করা সম্ভব হবে।
সিইসি আরও উল্লেখ করেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সবসময় কমিশনের হাতে থাকে না। আগামী বছরের শুরুতে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় অন্যান্য বিষয়গুলো সমন্বয় করেই সময় ঠিক করতে হয়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে খুব শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন।
নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় প্রকিউরমেন্ট বা কেনাকাটার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিইসি। এছাড়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। উৎসব, পরীক্ষা এবং জাতীয় কর্মসূচির মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।