যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত বা পরিবর্তন করার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নতুন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ভিসা কর্মকর্তাদের আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের দক্ষতা ও মানদণ্ড আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই এই নতুন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই যেসব আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারিত ছিল, তাদের ই-মেইলের মাধ্যমে সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন তারিখ ও সময় পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই কঠোর অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করে একে বৈষম্যমূলক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে ভিসা বাতিল, আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। তবে এই কঠোরতা আইনি বাধার মুখেও পড়ছে। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) একটি মার্কিন আদালত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে। আদালত জানায়, এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। এছাড়া, কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপের মতো বিষয়গুলোও অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ প্রশিক্ষণের জন্য ভিসাসংক্রান্ত সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চাকরির আরও তথ্য: এরই মধ্যে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ থাকা কিছু আবেদনকারীকে সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের অভিযোগ, নতুন বিধিনিষেধ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কড়াকড়ির আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথও কঠিন হয়ে উঠছে।