রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আমুর গ্যাস-রাসায়নিক কমপ্লেক্সে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এই মর্মান্তিক সংবাদ নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন চীনের নাগরিক বলে শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে এখনো নয়জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলমান রয়েছে।
আমুর গ্যাস-রাসায়নিক কমপ্লেক্সটি রাশিয়ার শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিবুর এবং চীনের রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ অর্থায়নে একটি বিশাল প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। যদিও প্রকল্পটিতে এখনো আনুষ্ঠানিক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়নি, তবে দ্রুত তা চালুর জন্য জোর প্রস্তুতি চলছিল। রাশিয়ার বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে কাজের প্রয়োজনে নিয়মিতভাবে প্রচুর বিদেশি ও চীনা শ্রমিকদের নিযুক্ত রাখা হয়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই রাশিয়ার তদন্ত কমিটি বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধান শুরু করেছে। শিল্প নিরাপত্তা বিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং আগুনের প্রকৃত উৎস কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই কমপ্লেক্সটি পুরোদমে চালু হলে বিশ্ববাজারে এর প্রভাব বিস্তারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখান থেকে বছরে প্রায় ২৩ লাখ টন পলিথিন এবং ৪ লাখ টন পলিপ্রোপিলিন উৎপাদনের বৈশ্বিক সক্ষমতা তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে নিহত চীনা নাগরিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের আমুর অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি গ্যাস-রাসায়নিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর থেকে এখনো আরও ৯ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি।