নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হিমালয়ের সীমান্ত ক্রসিংয়ের উজানে একটি নতুন বাঁধযুক্ত হ্রদ বা ব্যারিয়ার লেক সৃষ্টির ফলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এই হ্রদটি ভেঙে গেলে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বর্তমানে চলমান উদ্ধার তৎপরতাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় চহোচেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর মোহনায় সৃষ্ট এই হ্রদটির ওপর নিবিড় নজরদারি ও মূল্যায়ন চালাচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বেইজিং ও চেংডু থেকে ফায়ার সার্ভিস এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তারা স্থানীয় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জিরং শহরের মূল অংশে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হলেও বন্দর সংলগ্ন এলাকাগুলো এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হিমালয় অঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও তিব্বতে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে হিমবাহের হ্রদ উপচে পড়ে ভয়াবহ বন্যায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুই দেশেই ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিব্বত অংশে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল অংশেও অন্তত ১০০ চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, নেপালে এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকাজ নিরাপদ রাখতে এবং নতুন কোনো বিপর্যয় এড়াতে চীন সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে চীন।