নেপালের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত ও চীন—উভয় দেশই সমান গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারসাম্য বজায় রেখে দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে নেপাল। কাঠমান্ডুতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের তুলনা করতে গিয়ে বলেন, ‘বাবা বা মাকে কি একে অন্যের বিকল্প হিসেবে ধরা যায়? আমি নিশ্চয়ই বাবাকে মায়ের সঙ্গে বা মাকে বাবার সঙ্গে বদলাতে চাইব না।’ তিনি আরও বলেন, নেপাল একটি আবেগপ্রবণ জাতি হলেও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে তারা যুক্তির পথেই হাঁটে।
চীন নেপালকে কার্যত দখল করে নিচ্ছে—এমন ধারণাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শিশির খানাল। তিনি জানান, অনেক সময় ভারত থেকে এ ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়, যা সঠিক নয়। চীনের সঙ্গে নেপালের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো এবং তা বজায় রাখতে নেপাল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, নেপালের মোট বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশই ভারতের সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্প নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে খানাল জানান, অনেক আলোচনা হলেও গত দশ বছরে এই প্রকল্প থেকে নেপাল কোনো আর্থিক সুবিধা পায়নি। একইসঙ্গে তিনি জানান, পর্যটন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ভারতীয় সংস্থাগুলোর জন্য নেপালের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।
এদিকে, নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে পাহাড়ি ঢলে ১৬০ জন এবং পরবর্তীতে আরও ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া শত শত পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। হিমবাহ ধসের কারণে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপালের এই বন্যায় ভারতের দুই প্রদেশেও বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার ফলে সেখানে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে নেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্যান্য ঘটনার মধ্যে, বাইকে দুই তরুণের মাঝে এক তরুণীর অচেতন অবস্থায় থাকার একটি ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এসব ঘটনার পাশাপাশি নেপাল সরকার তাদের কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ে র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খুব আবেগপূর্ণ জাতি।