প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ভৌগোলিক সীমানা ছাপিয়ে নেপালের ভয়াবহ বন্যার প্রভাব এখন ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার কারণে ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দুই রাজ্যে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
নেপাল ও ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নারায়ণী-গণ্ডক নদীই মূলত এই দুর্যোগের যোগসূত্র। তিব্বত-নেপাল সীমান্ত থেকে উৎপন্ন নদীটি নেপালে ‘নারায়ণী’ নামে পরিচিত হলেও ভারতে প্রবেশের পর এর নাম হয় ‘গণ্ডক’। নদীটি ত্রিবেণী ধাম হয়ে বিহারের বাল্মীকিনগরে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে হাজিপুর ও সোনপুর এলাকায় গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, হিমবাহ হ্রদের পানি উপচে তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদী দিয়ে প্রবল বেগে নেমে আসা পানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এই নদীটি ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থার মাধ্যমে নারায়ণী-গণ্ডক অববাহিকায় যুক্ত হওয়ায় পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিহারের পশ্চিম চম্পারণের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেটই বুধবার খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরের দিকে ব্যারাজ থেকে প্রায় ৮৬ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সারণ, মুজাফফরপুর ও বৈশালী জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
একইভাবে উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগর জেলাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ঘাগরা, শারদা ও রাপ্তি নদীর পানির স্তর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
নেপালে এই দুর্যোগে হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি ঢলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যায় ১৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮০০ জনই বিদেশি পর্যটক। পৃথক এক ঘটনায় নেপালে পাহাড়ি ঢলে ২০ জনের মৃত্যু ও শত শত পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যান্য ঘটনার মধ্যে পাকিস্তানে একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ৯/১১ হামলার মূলহোতা ২৫ বছর পর সামরিক আদালতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
দেশের অভ্যন্তরেও বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ভারতে রিল ভিডিও তৈরির সময় ট্রেনের ধাক্কায় এক তরুণী তার দুই হাত হারিয়েছেন। এছাড়া পারিবারিক কলহের জেরে বাবার টাকা চুরি করে রিসোর্টে রাতযাপনের ঘটনাও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রাজনীতির মাঠে ‘মক্কা প্যাক্টে’ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে নেপালের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব এবং অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ এখন জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালের বন্যায় এবার বড় ঝুঁকিতে ভারত, ২ প্রদেশে হাই অ্যালার্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানচিত্রে সীমারেখা, সড়কে ব্যারিকেড কিংবা কাঁটাতার দিয়ে দুই দেশের সীমানা নির্ধারণ করা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু প্রকৃতির প্রবাহ কোনো সীমান্ত মানে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে উৎপত্তি হওয়া নদীটি মুস্তাং অঞ্চল দিয়ে নেপালে প্রবেশ করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালে হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার পর নদীটির পানিপ্রবাহ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে গ্রাম ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনকে পুরোপুরি সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’।