বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইসরাইল নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, নতুন ভোটের শঙ্কা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, প্রভাব ফেলছে তেলের দর সিন্ডিকেট ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে সাশ্রয় ১৪ কোটি টাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০ গাজীপুরে বাবার মৃত্যু: পলাতক তরুণ আটক, স্থানীয়দের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৫ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী: যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার অভিজ্ঞতায় মিঞা মহসিন ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

প্রেক্ষাপট: স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

প্রতিবেদকের নাম

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজন, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এছাড়া সংসদ সদস্য, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে অনেককে তুলে নিয়ে গিয়ে গোপনে আটকে রাখা হয়েছিল। তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম এবং সাজেদুল ইসলাম সুমনের মতো অসংখ্য মানুষের কথা স্মরণ করেন। এছাড়াও ব্যারিস্টার আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীর মতো ব্যক্তিদের বছরের পর বছর আলো-বাতাসহীন বন্দিশালায় রাখার ঘটনা তিনি উল্লেখ করেন।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে কেড়ে নেয় না, বরং তার পরিবারের স্বপ্ন ও শান্তি ধ্বংস করে দেয়। তিনি জানান, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের লক্ষ্যে এসব পৈশাচিক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আর চোখের পানি ফেলতে হবে না। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী আগে, এখনই পদক্ষেপ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না। গুমের শিকার পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সাম্য ও মর্যাদা হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি। সুশাসন, জবাবদিহিতা ও বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সোচ্চার ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে যে গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত দিয়েছিলেন, গুম-খুনের সংস্কৃতি সেই স্বপ্নকে কলঙ্কিত করেছিল। তবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার ও প্রতিকারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যাবে। রাষ্ট্রপতির মতে, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে নয়, বরং নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই পরিমাপ করা সম্ভব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্রপতি বলেন, ৩০ আগস্ট এমন একটি দিন, যা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জোরপূর্বক গুমের শিকার মানুষদের স্মরণ করার পাশাপাশি তাদের স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা, বেদনা ও অনিশ্চয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দিনের পর দিন, বছরের পর বছর সন্তান ও স্বজনের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা মা-বাবা, ভাই-বোন এবং প্রিয়জনদের কথা স্মরণ করে তিনি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষ্য, ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গুরুতর অপরাধ সবসময় অস্বীকার করে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের পরিবারের প্রতিটি রাত বুকভরা বেদনা, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার মধ্য দিয়ে কেটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, মঞ্চে উপবিষ্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে বিদেশে ফেলে আসা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের মধ্যে কেউ কেউ সৌভাগ্যক্রমে সমাজের মাঝে ফিরে এসেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ