বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীকে ডনাল্ড ট্রাম্পের ধন্যবাদসূচক চিঠি হবিগঞ্জের মাধবপুরে কিশোরীর ঘটনায় সালিসের মাধ্যমে আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ ইরানের দাবি: মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ভূপাতিত হয়েছে ২০০টির বেশি বিমান শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে পিকআপ উল্টে বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত সিলেটে চালু হলো দেশের প্রথম সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ প্রশিক্ষণকেন্দ্র কলকাতায় আনন্দবাজার পত্রিকা ভবনে গেরুয়া রং লেপে বিক্ষোভ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিপিএল না হওয়ার ক্ষতিপূরণ ও ঘরোয়া ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিসিবি-কোয়াব বৈঠক ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি: জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম: ৫০ টাকার নিচে মিলছে কেবল দুই সবজি প্রেক্ষাপট: বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

ব্যান্ডউইথ সংকটের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: ২০২৮ সাল নাগাদ বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

প্রতিবেদকের নাম

আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ স্থাপনে সিদ্ধান্তহীনতা বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। সময়মতো সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দেশ বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার অদূরে আয়োজিত ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান মাহমুদ শাহেদ সাবমেরিন ক্যাবলের ইতিহাস, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চাহিদা, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে উপস্থাপনা দেন। মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, দেশে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হলে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব আরও মজবুত হবে। তার মতে, এতে ইন্টারনেটের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে এবং সেবার মান ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া নেটওয়ার্কের বিলম্বকাল (ল্যাটেন্সি) কমে আসবে এবং নতুন ক্যাবল চালু হলে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে।

গত এক দশকে দেশে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার অভাবনীয় হারে বেড়েছে। ২০১৩ সালে যেখানে ব্যবহার ছিল মাত্র ৫০ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড, সেখানে ২০২৬ সালে তা প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাত্র ১৩ বছরে ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ২৬০ গুণ। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে চাহিদা ১৯ দশমিক ১ টেরাবিট, ২০২৮ সালে ২৭ টেরাবিট, ২০৩০ সালে ৫৪ টেরাবিট, ২০৩৫ সালে ৩০৫ টেরাবিট এবং ২০৩৬ সালে ৪৩২ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে। ভিডিও স্ট্রিমিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল পেমেন্টের মতো খাতের প্রসারের কারণে এই চাহিদা আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংযোগের প্রধান ভরসা দুটি সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল—সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫। এগুলোর সক্ষমতা যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬ ও ২ দশমিক ৫ টেরাবিট। অবশিষ্ট ব্যান্ডউইথ টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবলের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। বক্তারা জানান, মাত্র দুটি ক্যাবলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বড় ঝুঁকি। যেখানে ভারত ১৯টি, মালয়েশিয়া ২৩টি, থাইল্যান্ড ১২টি এবং ফিলিপাইন ১৯টি সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে বাংলাদেশের সংযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে কোনো একটি ক্যাবলে ত্রুটি দেখা দিলে জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে।

সরকারের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৬ চালু হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা যথেষ্ট হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সি-মি-উই-৪-এর কার্যকাল ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা। অন্যদিকে ব্যান্ডউইথের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ২০২৮ সালেই বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের অনুমোদনকে একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ক্যাবলগুলো চালু হলে প্রায় ৫১ টেরাবিট অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত হয়ে দেশের মোট সক্ষমতা ৬৭ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে, যা বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানির নির্ভরতা কমাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি কেবল বর্তমান চাহিদা মেটানোর নয়, বরং ২০৩০ ও ২০৩৫ সালের ডিজিটাল সক্ষমতা অর্জনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাবমেরিন ক্যাবল পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় প্রয়োজন। তাই সংকট দৃশ্যমান হওয়ার পর উদ্যোগ নিলে তা কাজে আসবে না। সিদ্ধান্তহীনতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় ধরনের ডিজিটাল অবকাঠামোগত সংকটের মুখে পড়বে বলে কর্মশালায় সতর্ক করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৩ সালে যেখানে ব্যবহার ছিল মাত্র ৫০ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড, ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৭৬ টেরাবিটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২০ সালে ১ দশমিক ৭৮, ২০২২ সালে ৪ দশমিক ২, ২০২৪ সালে ৬ দশমিক ৮৬ এবং ২০২৬ সালে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ