ভোলা থেকে মূল ভূখণ্ডে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণের প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, এই পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে। দীর্ঘ এই সময়ের অপেক্ষায় না থেকে সরকার ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভোলাতেই সার কারখানা এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-১৭ এর সদস্য সুলতানা আহমেদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নিতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তাই স্থানীয়ভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে ভোলার অর্থনীতির আকার বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার সেখানে একটি বড় সার কারখানা এবং ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এই পরিকল্পনায় প্রতিটি অঞ্চলের সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসকে জাতীয় অর্থনীতিতে কাজে লাগাতে সরকার আরও কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ভোলা জেলায় ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নতুন কৌশলগত কাঠামোর আওতায় ভোলা ও এর আশপাশের দ্বীপগুলোকে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির কেন্দ্রীয় কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। এই জোনের আওতায় ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় কৃষি উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ভোলার ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীপ জেলাটির অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে সরকার।