ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ‘ফল ২০২৬’ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আশুলিয়ার ‘ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি’ ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, সহশিক্ষা সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন সেবামূলক উদ্যোগের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সকাল থেকেই স্বাধীনতা সম্মেলনকেন্দ্রে বিএনসিসি, এয়ার রোভার স্কাউট ও শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবকদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেওয়া হয় নবাগতদের। এ সময় তাদের ফুল ও স্মারক উপহার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, এইচআরডিআই, অ্যাডমিশন.এসি, স্কিল.জবস, গোএডু ও ডিআইএলসি-এর পক্ষ থেকে বুথ স্থাপন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সেবা ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ মুশফিকুর রহিম। তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আর কবির নবীনদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অফিস অব দ্য স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্সের উপদেষ্টা অধ্যাপক এ বি এম কামাল পাশা। বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সফল অ্যালামনাইদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব। এতে অংশ নেন এসএসএল কমার্সের কি-অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার প্রিয়া রানী দে, এসিআই মোটরস লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. ফরহাদ হোসাইন, মিয়াকি মিডিয়া লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. সাজ্জাদুর রহমান শাওন এবং সানপাওয়ার টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজাউল করিম। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজেদের শিক্ষাজীবন, কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ ও ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে ‘মিট দ্য অ্যাচিভার্স’ পর্বে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অধ্যাপক এ বি এম কামাল পাশা। সবশেষে বিকেলে স্বাধীনতা সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।