রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও অপহরণের অভিযোগে করা মামলায় ডিজিএফআই ও আনসার সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মিজানুর রহমান।
কারাগারে পাঠানো ছয় আসামি হলেন
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. শরিফ পেশায় একজন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী। ভাষানটেক এলাকায় প্রতিবেশী আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শনিবার রাতে সোহেলের কথা অনুযায়ী মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে শরিফ মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে যান। সেখানে একটি বাসার ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে সোহেল তাকে নিয়ে যান এবং কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে বের হয়ে যান।
এর পরপরই সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল মো. নুরুজ্জামান, নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী ও সোনিয়া নামের এক নারী ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। তারা শরিফকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। শরিফ সঙ্গে থাকা ৭০ হাজার টাকা দিলে তা নেওয়ার পরও অভিযুক্তরা সন্তুষ্ট না হয়ে তাকে মারধর করে শারীরিক জখম করে। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা তিনি দেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
শরিফ বাধ্য হয়ে পরিবারের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে তাকে বাসা থেকে বের করে জিয়াউল ইসলামের চালানো একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িতে মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম তাকে আটকে রেখে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে যায়।
অভিযুক্তরা চা পানের জন্য গাড়ি থেকে নামলে পুলিশের গাড়ি দেখে শরিফ লাফ দিয়ে নেমে চিৎকার দেন। খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল নুরুজ্জামান, মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলামকে আটক করে এবং টয়োটা গাড়িটি জব্দ করে। পরে মোহাম্মদপুর থানার এসআই রাসেল ইসলাম তাদের হেফাজতে নেন এবং অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আনসার সদস্য সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় শরিফ বাদী হয়ে মোট আটজনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় চাঁদা দাবি, মারধর ও অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর ছয়জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।