চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে বড় কুমিরা এলাকায় কিং অব কুমিরা কনভেনশন হলের দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনার দিকে যাচ্ছিল। পথে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বাসটি সড়কের পাশে থামানো হয়। গাড়িটি মেরামতের সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে রাস্তার পাশে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই দ্রুতগতির একটি লরি তাঁদের চাপা দিয়ে চলে যায়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মহাসড়কের বড় কুমিরা এলাকায় কিং অব কুমিরা কনভেনশন হলের দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কুমিরা স্টেশনের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ফায়ার ফাইটার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, লরির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধারকৃত আহত চারজনকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহতদের মধ্যে নেত্রকোনার ছয় বছর বয়সী শিশু ইব্রাহিম ও স্বপ্না নামে এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকিদের নাম-পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আহত অপর চারজন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ ও সার্জেন্ট শামীম আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের চাপা দেওয়ার এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সম্মিলিত উদ্যোগে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।