শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাবনায় বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এআই-নির্ভর আগামীর জন্য যেভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উত্তরাখণ্ডে ৬ আরোহী নিয়ে হেলিকপ্টার নিখোঁজ, বিধ্বস্তের আশঙ্কা শীতের সবজিতে বাজার সয়লাব, তবে চড়া দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা জাপান সফর ফলপ্রসূ, নতুন উচ্চতায় সম্পর্ক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অনিয়মে জড়িত খুলনা রেঞ্জের ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড পাবনায় পুষ্পপাড়া হাটের দুই নেতাকে মৃত্যুর ঘটনায় সৌদি আরবে মক্কা লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন হামলা বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেওয়ার খবর নাকচ জাপানের

পাবনায় পুষ্পপাড়া হাটের দুই নেতাকে মৃত্যুর ঘটনায়

প্রতিবেদকের নাম

পাবনার সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া গরুর হাটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল অতর্কিতে হাটের কার্যালয়ে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় ‘আজ পুষ্পপাড়া স্বাধীন’ বলে চিৎকার করে এলাকা ছাড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাটের পাশের এক দোকানি এ তথ্য জানান। হামলায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আবদুস সালাম (৫৬) এবং তাঁর ভাগনে আতাইকুলা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৫০)। তারা দুজনেই ধর্মগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এরপর যেতে যেতে বলতে লাগল, ‘আজ পুষ্পপাড়া স্বাধীন’। দুজনই জেলা সদরের আতাইকুলা ইউনিয়নের ধর্মগ্রামের বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘বেটাডা (আবদুস সালাম) খুব ভালো ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘এই গরুর হাটের জন্যিই মনে হয় এত কিছু। কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগ নেতা ও তাঁর ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা।

প্রায় ৩০ বছর ধরে আবদুস সালাম পুষ্পপাড়া গরুর হাটের ইজারা পরিচালনা করে আসছিলেন।

ভাগনে রিপন নিয়মিত তাঁর সঙ্গেই থাকতেন। পাতিলে বড়ই পাতার গরম পানি নিয়ে মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছেন কয়েকজন প্রবীণ। কী কারণে যে বেটাডাক মারল, বুঝবের পারতেছি না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা হাটের কার্যালয়ে থাকাকালীন পৌনে সাতটার দিকে দুর্বৃত্তরা এসে গুলি চালালে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আজ শুক্রবার বিকেলে তাদের স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। নিহত আবদুস সালাম কোরআনে হাফেজ ছিলেন এবং হাটের আয়ের বড় অংশ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করতেন বলে জানিয়েছেন তাঁর বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ। জানাজা শেষে আজ বাদ আসর তাঁদের স্থানীয় কবরস্থানে দাফনের কথা। আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জানি না কী কারণে আমার ভাই ও ভাগনেকে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার পরদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাটের কার্যালয়ের মেঝেতে রক্তের দাগ ও স্থানীয়দের ভিড় দেখা যায়। আবদুস সালামের বাড়িতেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার নেপথ্যে হাটের আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকাটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আবদুস সালামের বাড়িতে কথা হয় ফজলুল হক নামের গ্রামের এক প্রবীণের সঙ্গে। কারা ঘটনায় জড়িত নিশ্চিত হলে মামলা করব।’।

হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার জানান, হাটের ইজারা ও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, আবদুস সালামের ভাই আবুল কালাম অতীতে চরমপন্থী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই চরমপন্থীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা হাটের নিয়ন্ত্রণ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। সব কটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বাড়ির সামনে মৃতদেহ বহনের খাটিয়া, ভেতরে চলছে মরদেহ গোসল দেওয়ার প্রস্তুতি। আমরা দুটি বিষয় গুরুত্ব দিয়েই ঘটনার তদন্ত করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ