বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। আর্থিক অনিয়ম, প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন বুধবার তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সায়মা ওয়াজেদ বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।
২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করা সায়মা ওয়াজেদকে গত বছরের শেষ দিকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছিল সংস্থাটি। এর আগে একই বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা দাবি করেন, তাঁকে দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের গত ৩ জুলাইয়ের একটি চিঠির বরাতে রয়টার্স জানায়, চীন সফরের সময় আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল ডব্লিউএইচও। এছাড়া একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়। তবে সায়মা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ওই জমি তিনি ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় বৈধভাবে অর্জন করেছিলেন।
ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে সায়মা জানান, ৯০১ ডলার ফেরত পাওয়ার একটি আবেদনের প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন, তা আগেই মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে স্পষ্ট করেছিলেন।
প্রায় এক বছর ধরে বিনা বেতনে ছুটিতে থাকায় কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন সায়মা। তিনি জানান, ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে। এদিকে, সায়মাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে এবং ডিসেম্বরে যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা ও জরুরি পরিস্থিতিতে সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনায় এই পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, আর ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। গত মাসে সংস্থাটি কেবল জানিয়েছিল যে, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন এবং গোপনীয়তার কারণে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।