বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে বৃটেন-ইসরাইল সম্পর্ক, বসতি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা নোয়াখালীতে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ: এলাকাবাসীর হাতে আটক, থানায় মামলা সংঘাতের রাজনীতি আর নয়, সমঝোতা ও সহনশীলতাই এখন দেশের মানুষের চাওয়া: রাষ্ট্রপতি রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেক্ষাপট: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক বুয়েটের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা তুমান নদীর ওপর নতুন সেতুতে সরাসরি সড়ক পথে যুক্ত হলো উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া যা জানা গেল: রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাপানকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে কৃষক কার্ড: এক লাখ কৃষক পাবেন প্রণোদনা

এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে বৃটেন-ইসরাইল সম্পর্ক, বসতি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা

প্রতিবেদকের নাম

গত এক দশকের মধ্যে বৃটেন ও ইসরাইলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বৃটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু বৃটেন নয়, ফ্রান্স, স্পেন ও কানাডাসহ মোট ১২টি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় ইসরাইলের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। লন্ডনের নীতিনির্ধারকরা এই পরিবর্তনের পর ইসরাইলের কঠোর প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা আগেই করেছিলেন, তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে আসা তাৎক্ষণিক ও তীব্র প্রতিক্রিয়া তাদের কিছুটা বিস্মিত করেছে।

ইসরাইলের ক্ষোভের প্রধান লক্ষ্য এখন বৃটেন। এর অংশ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত বৃটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল, যা রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত। এছাড়া গাজা উপত্যকায় ত্রাণ ও স্থিতিশীলতা সমন্বয়ের জন্য গত বছর প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার’ থেকে বৃটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে নেওয়ার মতো বৈরী পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে তেল আবিব। এসব ঘটনা স্পষ্ট করে যে, বৃটেন ও তার মিত্র দেশগুলোর এই সম্মিলিত সিদ্ধান্তে ইসরাইল গভীরভাবে বিচলিত।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতিসহ পুরো দখলদারিত্বই অবৈধ। তিনি মনে করেন, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই অবস্থানের প্রতিফলন থাকা জরুরি। এর অংশ হিসেবে কেবল বসতির পণ্যই নয়, বরং বসতিগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ ও অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দখলদারিত্বে সহায়ক হতে পারে এমন অস্ত্র বিক্রিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নিজেকে ‘গর্বিত বৃটিশ ইহুদি’ ও ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের অবিচল সমর্থক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া মিলিব্যান্ড তার পূর্বসূরিদের তুলনায় ইসরাইল ইস্যুতে অনেক বেশি সরাসরি ও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে, বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নির্মূলের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং ইসরাইল সরকার এর দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। মিলিব্যান্ড একে বৃটিশ পররাষ্ট্রনীতির একটি ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটিতে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও এই প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ইসরাইলের ভেতরেও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস ও উগ্র মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেক ইসরাইলি একে জাতীয়ভাবে বিব্রতকর মনে করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট গত বছরই সতর্ক করেছিলেন যে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতি ইসরাইলকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করে ফেলছে।

যদিও ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা বসতিগুলো অবৈধ—এই আইনি অবস্থানের সঙ্গে অধিকাংশ ইসরাইলি একমত নন, তবুও তারা আন্তর্জাতিক নিন্দার দেয়াল ক্রমেই ঘিরে আসতে দেখছেন। ইউরোভিশন বা বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে প্রতিবাদ, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং এখন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মতো ঘটনাগুলো ইসরাইলিদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও আত্মরক্ষামূলক মনোভাব তৈরি করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ