বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদীতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের প্রতিবাদে দুই ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ আজ সন্ধ্যা থেকেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর মেজর সকার লিগের নতুন ঠিকানা খুঁজে নিলেন চিলির তারকা আলেক্সিস সানচেজ কাতারে সুলতান হাইথাম বিন তারিক: দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে আমির শেখ তামিমের সাথে বৈঠক তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০০ কোটি টাকার তহবিল: জামানত ছাড়াই মিলবে ১০ লাখ টাকা ঋণ তরুণদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী উত্তর প্রদেশে গোমূত্র সংগ্রহে পাইলট প্রকল্প: কৃষকদের আয়ের নতুন পথ নাকি রাজনৈতিক বিতর্ক? ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদের ও শেখ পরশের ফোনালাপ উপস্থাপন: কী কথা হয়েছিল তাদের? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগই বড় অনুপ্রেরণা, আত্মবিশ্বাসী শান্ত কাতারে গৃহহীন বিড়াল সংকট: কেনাকাটার বদলে দত্তক ও বন্ধ্যাকরণের ওপর জোর উদ্ধারকারীদের

কাতারে গৃহহীন বিড়াল সংকট: কেনাকাটার বদলে দত্তক ও বন্ধ্যাকরণের ওপর জোর উদ্ধারকারীদের

প্রতিবেদকের নাম

কাতারে গৃহহীন ও বিপথগামী বিড়ালের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহত, ক্ষুধার্ত কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার প্রাণীদের বাঁচাতে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। তবে তাদের মতে, কেবল বিড়াল উদ্ধার করে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। বরং বিড়ালদের রাস্তায় আসা এবং অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধি রোধ করাই এখন সময়ের দাবি।

এই সংকট মোকাবিলায় কাতারজুড়ে একটি নতুন সচেতনতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে বিড়ালের বন্ধ্যাকরণ বা টিএনআর (Trap-Neuter-Return) কর্মসূচি এবং দোকান থেকে কেনা বাদ দিয়ে উদ্ধারকৃত প্রাণীদের দত্তক নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘ সাত বছর ধরে স্বাধীনভাবে প্রাণী উদ্ধারে কাজ করছেন দোহা প্রবাসী ইরিনা তিমোশেঙ্কো। বর্তমানে তিনি নিজের বাড়িতেই প্রায় ৭২টি বিড়ালের দেখাশোনা করছেন। অসুস্থ ও আহত প্রাণীদের সুস্থ করে তোলা, টিকা দেওয়া এবং বন্ধ্যাকরণ শেষে তাদের দত্তক দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিমোশেঙ্কো জানান, বিড়ালদের খাবারের জন্য মাসে প্রায় ১,৫০০ রিয়াল খরচ হলেও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সবচেয়ে কঠিন। গত দুই মাসে গুরুতর আহত ও সংক্রমিত ১৩টি বিড়ালের চিকিৎসায় তাঁর প্রায় ২৪,০০০ কাতারি রিয়াল খরচ হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা সাবিনা হুসেইনোভা বিপথগামী বিড়াল ও কুকুরদের খাবার দেওয়া এবং বন্ধ্যাকরণের পেছনে মাসে প্রায় ১,০০০ রিয়াল ব্যয় করছেন। তাঁর মতে, প্রাণীদের এলাকা থেকে সরিয়ে না নিয়ে বন্ধ্যাকরণ করাই বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকর উপায়।

বিভিন্ন প্রাণী কল্যাণ সংস্থা এই বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট মতামত জানিয়েছে। ‘টিএনআর কাতার’ (TNR Qatar) এর কর্মকর্তা শার্লট মনে করেন, আশ্রয় দিয়ে বা দত্তক দিয়ে হাজার হাজার বিড়ালের সংকট মেটানো সম্ভব নয়। এর সমাধান লুকিয়ে আছে টিএনআর কর্মসূচিতে। তারা বিড়াল ও কুকুরের বাধ্যতামূলক সরকারি নিবন্ধনের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ‘দ্য পার্ল অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার’ (The Pearl Animal Welfare) জানিয়েছে, স্থানান্তরের সময় পোষা প্রাণীদের পরিত্যক্ত না করা এবং দোকান থেকে কেনার বদলে উদ্ধারকৃত বিড়াল দত্তক নেওয়াই দায়িত্বশীলতার পরিচয়। এছাড়া ‘স্ট্রিটস অব স্ট্রে’ (Streets of Stray) সাধারণ বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে, এলাকা পরিষ্কার রাখা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও গ্রীষ্মে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা এবং পশুচিকিৎসায় সহায়তা করার মাধ্যমে যে কেউ এই মানবিক কাজে শরিক হতে পারেন।

উদ্ধারকারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাতার সরকারের নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি তিনটি প্রধান পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন: প্রথমত, বিপথগামী বিড়ালদের ধরে বন্ধ্যাকরণ শেষে নিজ এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়ার টিএনআর কর্মসূচির ব্যাপক প্রসার। দ্বিতীয়ত, পোষা প্রাণীর দোকান ও ব্রিডারদের ওপর কঠোর নজরদারি এবং মালিকদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন। তৃতীয়ত, দেশ ত্যাগ বা বাসা বদলের সময় পোষা প্রাণী ফেলে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই কেবল কাতারে গৃহহীন প্রাণীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

কাতারে গৃহহীন ও বিপথগামী বিড়ালদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রতিটি উদ্ধার অভিযান যেন দীর্ঘ সংগ্রামের এক একটি কষ্টকর অধ্যায়।

বিপুল আর্থিক ও মানসিক চাপ: তিমোশেঙ্কো জানান, বিড়ালদের খাবারের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১,৫০০ রিয়াল খরচ হলেও সবচেয়ে বড় আর্থিক ধাক্কা আসে চিকিৎসা খরচে।

গত দুই মাসেই গুরুতর আহত ও সংক্রমণে ভোগা ১৩টি বিড়ালের চিকিৎসার জন্য তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২৪,০০০ কাতারি রিয়াল।

এই লক্ষ্যে কাতার জুড়ে গড়ে উঠেছে একটি নতুন আন্দোলন, যেখানে বিড়ালের বন্ধ্যাকরণ (Sterilization/Neutering) এবং কেনাকাটার পরিবর্তে দত্তক গ্রহণকে (Adoption) মূল সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাহায্যের তাগিদ: আর্থিক ও মানসিক চাপ থাকা সত্ত্বেও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

একইভাবে দোহার বাসিন্দা সাবিনা হুসেইনোভা বিপথগামী বিড়াল ও কুকুরদের খাবার দেওয়া এবং বন্ধ্যাকরণের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১,০০০ রিয়াল ব্যয় করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ