বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন

ক্রোয়েশিয়াকে বিধ্বস্ত করে ইংল্যান্ডের গোল উৎসব

স্পোর্টস ডেস্ক ঃ

প্রথমার্ধে দারুণ লড়াই জমিয়ে তোলা ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয়ার্ধে কোথায় যেনো হারিয়ে গেল। একের পর এক আক্রমণে ক্রোয়াটদের রক্ষণ ভেঙে চূরমার করে দিল ইংলিশরা। গোলবারের নিচে ডোমিনিক লিভাকোভিচ অতিমানবীয় পারফরম্যান্স না করলে লজ্জার ইতিহাসেই পড়তে হতো ক্রোয়েশিয়াকে। তবে আক্রমণাত্মক ফুটবলে দারুণ জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ইংল্যান্ড।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড আর ক্রোয়েশিয়া। ক্রোয়েশিয়াকে পরাস্ত করে ৪-২ গোলের জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড।

ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ভুল করে বসেন দলের অভিজ্ঞ তারকা লুকা মদ্রিচ। বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সোজা আঘাত করেন ননি মাদুয়েকে কে। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

সেই পেনাল্টিতেই ঘটে নাটকীয়তা। প্রথমবার নেওয়া হ্যারি কেইনের পেনাল্টি বাঁ-দিকে ঝাপিয় পড়ে দারুণভাবে আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডোমনিক লিভাকোভিচ।

পেনাল্টি আটকে দিয়ে ক্রোয়েশিয়া যখন উদযাপন করছে, তখনই ভিএআর রেফারি শরনাপন্ন হন মুল রেফারি। ভিএআর চেক চেক দ্বিতীয়বার পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

এবার আর কোনো ভুল করেননি হ্যারি কেইন। এবারও তিনি একই দিকে শট নেন। কিন্তু লিভাকোভিচ ঝাঁপিয়ে পড়েন উল্টো দিকে। বল জালে জড়াতেই উল্লাসে মেতে ওঠে ইংল্যান্ড ফুটবল দল আর গ্যালারিতে থাকা সাদা সমুদ্র।

ম্যাচের ২৯তম মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে ইংল্যান্ড। বল নিয়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে বক্সের মধ্যে দারুণ ক্রস বাড়ান তিনি। কিন্তু সেটাতে পা ছোঁয়াতে পারেননি জুড বেলিংহ্যাম।

ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। মাঝ মাঠে দারুণ ট্যাকলে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে ওঠে ক্রোয়াটরা। ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন পিটার সুচিচ। সেখান থেকে ব্যাক পাস দেন বক্সের বাইরে থাকা মার্টিন বাটুরিনাকে।

বক্সের বাইরে বুলেট গতির শটে বল জালে জড়িয়ে দেন বাটুরিনা। বলের নাগাল পেলেও গোলরক্ষক পিকফোর্ড সেটি আটকাতে পারেননি গতির কারণে।

ক্রোয়াটদের সেউ উল্লাস অবশ্য বেশি সময় স্থায়ী হতে দেননি হ্যারি কেইন। ৬ মিনিট পরই আবারও ইংল্যান্ডকে লিড এনে দেন দারুণ এক গোলে। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বলে ক্রোয়েশিয়ার দুজন ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে মাথা ছুঁইয়ে জালে জড়িয়ে দেন কেইন।

যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আবারও ম্যাচে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। বক্সের মধ্যে লং বল থেকে বক্সের দারুণ হেডে পিটার মুসাকে পাস দেন ইভান পেরিশিচ। সেই বল পেয়ে বুলেট গতির ভলিতে ইংল্যান্ডের জাল কাঁপিয়ে দেন মুসা। শেষ মুহূর্তের গোলে সমতায় নিয়ে বিরতিতে যায় ক্রোয়েশিয়া।

বিরতিতে থেকে ফিরেই আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় মিনিটেই তৃতীয়বারের মতো লিড নেয় ইংলিশরা। সঙ্গে থাকা ক্রোয়াট ডিফেন্ডারকে গতিতে পরাস্ত করে ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন জুড বেলিংহ্যাম। কোনাকুনি শটে তৃতীয়বারের মতো ক্রোয়েশিয়ার জালে বল জড়ান তিনি।

পরের মিনিটে আবারও বল নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন বেলিংহ্যাম। এবার তার শট কর্ণারের বিনিময়ে আটকে দেন লিভাকোভিচ। কর্ণার থেকেও গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে ফাঁকায় থাকা নিকো ও’রাইলির ঠিকঠাক মতো হেড করতে পারেননি।

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে আরেকবার ক্রোয়েশিয়াকে রক্ষা করেন লিভাকোভিচ। ডেক্লান রাইসের নেওয়া টপকর্ণারে কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন তিনি।

৫৫তম মিনিটে টানা দুটি সেভ দেন লিভাকোভিচ। প্রথম দফায় ও’রাইলির শট আটকে দেন। তবে বল গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে শট নেন অ্যান্থনি গর্ডন। তার শটও আটকে দেন তিনি।

মাঝে আরও বেশ কিছুবার আক্রমণে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। তবে গোল আদায় করতে পারছিল না তারা। কোচ থমাস টুখেলও একাধিক পরিবর্তন আনেন।

বদলি নামা সেই বুকায়ো সাকা আর মার্কাশ র‌্যাশফোর্ডের রসায়নে চতুর্থ গোল পায় ইংল্যান্ড। সাকার পাস থেকে বল পেয়ে ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন র‌্যাশফোর্ড।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ