‘জে’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউট নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার। জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি তাই রূপ নিয়েছিল স্রেফ নিয়মরক্ষার। বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করতে মূল একাদশের বেশিরভাগ ফুটবলারকে বেঞ্চে রেখেই একাদশ সাজালেন কোচ। তবুও পারফরম্যান্সে কোনো ভাটা পড়ল না। জর্ডানের বিপক্ষে বড় জয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল আলবিসেলেস্তেরা।
আজ রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে জর্ডানের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। দাপুটে পারফরম্যান্সে জর্ডানকে ৩-১ উড়িয়ে দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ শেষে ৩ জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউটে গেল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ৩ ম্যাচে সমান একটি করে জয়, পরাজয় আর ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২- এ গেল অস্ট্রিয়া। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তিন নম্বরে থেকে সেরা আট ‘তৃতীয় স্থান’ দল হিসেবে কোয়ালিফাই করেছে আলজেরিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। এই অর্ধে ৭৪ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলে জন্য ৫টি শট নিয়েছে তারা। যার লক্ষ্যে ছিল ৩টি। বিপরীতে, ২৬ শতাংশ বল দখলে রেখে ৩টি শট নিয়েছে জর্ডান। তবে কোনো শটই লক্ষ্যে রাখতে পারেনি তারা।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ডানদিক থেকে আসা কর্নার কিকে মাথা ছুঁইয়েছিলেন নিকোলাস ওতামেন্ডি। কিন্তু তার হেড চলে যায় গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে।
১৭তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। ফ্রি-কিক থেকে বাঁকানো শটে দারুণ ফিনিশিংয়ে সরাসরি গোল করেন জিওভান্নি লোসেলসো। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ২৭তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম দফা লাউতারো মার্টিনেজের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল পেয়ে অনেকটা নিচু হয়ে হেড করতে গিয়েছিলেন মার্কোস সেনেসি। জর্ডানের ডিফেন্ডার নিজার আল-রাশদান বল ক্লিয়ার করতে গেলে মুখে শট লাগে সেনেসির।
রেফারি ভিএআর চেক করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান। পেনাল্টি থেকে সফল স্পট কিকে দ্বিতীয় গোল তুলে নেন লাউতারো মার্টিনেজ।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আরও একবার গোলবারের বাধায় হতাশ হতে হয় আর্জেন্টিনাকে। সেটপিস থেকে ডি-বক্সে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁইয়েছিলেন ওতামেন্ডি। দূরের পোস্টে গোলবারে লেগে বল বাইরে চলে যায়। ফলে ২-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে আরও একবার জ ডানের জালে বল জড়িয়েছিলেন মার্টিনেজ। কিন্তু লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় বাতিল হয়ে যায় সেটি।
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে ব্যবধান জর্ডানের আল-মাতারি। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে ছয় গজ বক্সের ক্রস বাড়ান ইহসান হাদ্দাদ। পাশে থাকা ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে স্লাইড শট নেন মুসা তামারি। বল এমিলিয়ানো মার্টিনেজের হাত স্পর্শ করে ঠিকানা খুঁজে নেয় জালে।
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। এরপর আক্রমণে কিছুটা জোড় দেয় আর্জেন্টিনা। তবে ফলাফল আসছিল না। এরপর মযা৮০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্খিত গোল।
বক্সের সামনে মেসিকে ফাউল করে জর্ডানের ডিফেন্ডার। ঠিক প্রিয় জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপরই ম্যাজিক দেখান ফুটবল জাদুকর। ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল আদায় করে নেন মেসি।
এরপর আর কোনো দলই জাল খুঁজে পায়নি। ফলে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ চাড়ে আর্জেন্টিনা।