শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন

জাতীয় গ্রিডে কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবদান ৬ কোটি

প্রতিবেদকের নাম

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে স্থাপিত দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা পাহাড়ের প্রায় ১৯ একর জমিতে ২০১৯ সালে ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭.৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে ৬ কোটি ৩৭ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে, যার বর্তমান বাণিজ্যিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় ২২ একর জমির ১৯ একর জমিতে প্রায় ১শ’ ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে। 1962, 22, 19, 11, 2019, 7, 4. সূর্যের আলোর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার সাথে তা পরিণত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সফল। তিনি উল্লেখ করেন, এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পটির সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। বর্তমানে মূল কেন্দ্রের সাথে ১ মেগাওয়াট সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে এবং ব্রিকফিল্ড এলাকায় আরও ৭.৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। তিনি জানান, আমাদের ব্রিকফিল্ডে আরেকটি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট সম্পন্ন পাওয়ার প্লান্ট করার প্রক্রিয়া চলমান এবং এর টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।

সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কার্যকারিতা সম্পর্কে কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক প্রকল্প। এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুবই সামান্য; মূলত প্যানেলগুলো পরিষ্কার রাখলেই চলে। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল থাকলেও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয় না। পাহাড়ের অব্যবহৃত এলাকায় এমন প্রকল্পের বিস্তার ঘটাতে পারলে তা দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। রক্ষনাবেক্ষণ বলতে শুধুমাত্র পরিস্কার রাখতে হয়। আবহাওয়া খারাপ থাকলে কিছুটা উৎপাদন কম হলেও উৎপাদন থেমে থাকে না।

প্রথাগত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির অবদান অপরিসীম। প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান আরও বলেন, এই প্রকল্পে তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার মতো কোনো জ্বালানি পোড়াতে হয় না। ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমছে, তেমনি কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাওয়ায় পরিবেশও সুরক্ষিত হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোও এর অন্যতম ইতিবাচক দিক। কমানোর সম্ভাবনা, অন্যদিকে কার্বন নি:সরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপ্তাইয়ের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশের অনাবাদি ও অব্যবহৃত জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা উচিত। ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সোলার পার্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের বিশাল পরিত্যক্ত পাহাড়ি এলাকা সৌর বিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে তা দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করতে পারে। সরকারি সহায়তায় এমন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়াই এখন সময়ের দাবি। দেশের এক দশমাংশ অঞ্চলজুড়ে তিন পার্বত্য জেলার অবস্থান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ