জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সাময়িক সমাধানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যেন বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যেই নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রোববার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ইআরএফ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ এ কথা জানান।
প্রেস সচিব বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সংকট একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে যেসব দেশ থেকে গ্যাস আমদানি করা হতো, তারাও নানা সংকটের মুখে পড়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো অজুহাত দেখাতে চায় না, বরং গ্যাসের ক্ষেত্রে পুরোপুরি আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে চায়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২২ সালের আগস্টে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের যে প্রভাব পড়েছিল, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের আমলের বৈশ্বিক সংকটের দায় মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালন করা বর্তমান সরকারের ওপর চাপানো যৌক্তিক নয়। যেকোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, তরুণরা তিন থেকে চারটি ভাষা শিখলে ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্ব এখন একটি ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা’য় পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ভাষা শিক্ষার উদ্যোগকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান তিনি।
ইআরএফের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, পেশাগত মানোন্নয়নে দৈনন্দিন রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি চীনা, জাপানি ও ফরাসি ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান থাকা জরুরি। এটি বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করবে।
হেডম্যান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন বলেন, আনন্দদায়ক পরিবেশে ভাষা শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর। বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি দেশসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা জানান, সদস্যদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই ভাষা ক্লাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। এটি রিপোর্টিংয়ের কাজ সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি দূতাবাস ও নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়ক হবে। একাধিক বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ইআরএফ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং সপ্তাহের কয়েক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ জন্য ইআরএফকে সদস্যদের ভাষা শেখানোর কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তেই যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় যে ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা’ ধারণা অকল্পনীয় মনে হতো, তা এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে তরুণদের পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে একাধিক ভাষা শেখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।