মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রেক্ষাপট: মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে আগ্রহী বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্রেমলিনে পুতিন-জয়শঙ্কর বৈঠক: ভারত-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার সীমান্ত হাট ও সুতা আমদানি জটিলতা নিরসনে ভারত-বাংলাদেশ আলোচনা নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোহিঙ্গাদের জন্য ৭৩ মিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়, যুদ্ধের প্রভাবই প্রধান কারণ: রুহুল কবির রিজভী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন সৌদি রাষ্ট্রদূত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কলম্বো টেস্টে মাথা ঠোকাঠুকির জেরে শাস্তি পেলেন জয়সোয়াল ও আশিতা দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

দুই দিনে ‘ঘুষ.সাইট’-এ ৮ শতাধিক অভিযোগ, দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা

প্রতিবেদকের নাম

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কোথায় এবং কত টাকা ঘুষের সম্মুখীন হচ্ছেন, সেই তথ্য তুলে ধরতে সম্প্রতি চালু হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site)। গত ২১ আগস্ট যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মে ভুক্তভোগীরা নাম-পরিচয় গোপন রেখে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারছেন। চালুর মাত্র দুই দিনের মাথায় সাইটটিতে ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের মোট পরিমাণ ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ নামের দুই বন্ধু মিলে এই উদ্যোগটি নিয়েছেন। বিদেশের অনুরূপ একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এটি তৈরি করেছেন। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য হলো, বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা ঘুষের ঘটনাগুলোকে একটি উন্মুক্ত রেকর্ডে নিয়ে আসা, যাতে সরকারি দপ্তর বা সেবা খাতগুলোর একটি স্বচ্ছ চিত্র পাওয়া যায়। তবে ওয়েবসাইটটি কোনো তদন্ত সংস্থা নয় এবং এটি দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্প হিসেবেও কাজ করছে না। সাইটে প্রকাশিত প্রতিটি তথ্যের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ বা যাচাইহীন হিসেবে উল্লেখ করা থাকে, কারণ প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে সত্যতা যাচাই করা হয় না।

অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ ও দ্রুত। ব্যবহারকারীকে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, ঘুষের অঙ্ক এবং ঘটনার ফলাফল—এই পাঁচটি তথ্য দিতে হয়। কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই এবং পুরো প্রক্রিয়াটি দুই মিনিটের কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে গোপনীয়তা রক্ষায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যক্তির নাম, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করার সুযোগ রাখা হয়নি। জমা পড়া অভিযোগগুলো সরাসরি প্রকাশ করা হয় না; বরং মডারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও আক্রমণাত্মক বিষয়বস্তু বাদ দিয়ে তবেই তা ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত হয়।

বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৪৩০টি অভিযোগ এসেছে ঢাকা থেকে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬৭টি, রাজশাহীতে ৪৪টি, খুলনায় ৪৩টি, সিলেটে ৩৮টি, রংপুরে ৩৭টি, ময়মনসিংহে ৩০টি এবং বরিশালে ১৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ ভুক্তভোগী ঘুষ দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সাইটটি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে চলছে। কোনো এনজিও বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বা বাইরের কোনো অর্থায়ন তারা গ্রহণ করেননি। সাইফ কবির বলেন, তাদের সাফল্যের মাপকাঠি কেবল ওয়েবসাইটের ভিজিটর সংখ্যা নয়। বরং কোনো নাগরিক সেবা নিতে যাওয়ার আগে যদি মানুষের আগের অভিজ্ঞতা দেখে সতর্ক হতে পারেন এবং অন্যায্য ঘুষের দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, তবেই এই উদ্যোগ সার্থক হবে বলে তারা মনে করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আক্রমণাত্মক, অস্পষ্ট বা নীতিমালা ভঙ্গ করে এমন অভিযোগও বাদ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর চট্টগ্রামে ১৬৭, রাজশাহীতে ৪৪, খুলনায় ৪৩, সিলেটে ৩৮, রংপুরে ৩৭, ময়মনসিংহে ৩০ এবং বরিশালে ১৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাইটটি এখন পর্যন্ত নিজস্ব অর্থে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সঙ্গে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, এখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেয়ে কোন দপ্তর বা সরকারি সেবা ঘিরে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ বেশি আসছে, সেটি তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাইটে স্বেচ্ছা অনুদানের সুযোগও রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জানতে চাইলে সাইটটির উদ্যোক্তাদের একজন সাইফ কবির বলেন, তাঁদের কাছে সাইটটির সাফল্যের মাপকাঠি শুধু ওয়েবসাইটে কত মানুষ ঢুকল, তা নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেটিকেই এই উদ্যোগের সাফল্য হিসেবে দেখছেন তাঁরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ