হালাল পণ্যের মানদণ্ড নির্ধারণ এবং সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি অর্জন করল ধর্ম মন্ত্রণালয়। সরকার ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ সংশোধন করার মাধ্যমে হালাল মান ও সনদসংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রণালয়টির কার্যপরিধির অন্তর্ভুক্ত করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত রোববার (২৩ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা একই দিনে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই সংশোধনী এনেছেন। মূলত গত ১৯ আগস্ট জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হালাল মান ও সনদসংক্রান্ত বিষয়গুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের তালিকায় যুক্ত করা হয়। এই সংশোধনের ফলে ‘রুলস অব বিজনেস’-এর সিডিউল-১-এ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি সম্প্রসারিত হয়েছে। সেখানে ‘৩৪. মিনিস্ট্রি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ শিরোনামের ২২ নম্বর আইটেমের ঠিক পরেই ২৩ নম্বর আইটেম হিসেবে ‘ম্যাটার্স রিলেটিং টু হালাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড সার্টিফিকেশন’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতদিন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের হালাল সনদ প্রদান এবং মান নির্ধারণের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে এই কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন এই সংশোধনী কার্যকর হওয়ার ফলে সরকারের কার্যবণ্টন কাঠামোয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও এখতিয়ার এখন সুনির্দিষ্ট হলো।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে হালাল পণ্য ও সেবার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়টির আইনি ভিত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সংশোধন অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে হালাল সনদ প্রদান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি হালাল মান নির্ধারণের কাজও করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।