বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শপিংমল-দোকান খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ কালিয়াকৈরে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে পুশইনের শিকার সেই বৃদ্ধ গোদাগাড়ীর বাসিন্দা, হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে ইউসিবির মূলধন দ্বিগুণ, ৪৩তম এজিএম সম্পন্ন মন্ত্রিসভায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন বাজেটে কমছে ও বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম আরটিভি’তে ধারাবাহিক নাটক ‘ম্যানেজ মাস্টার’ বিরামপুরে পিকআপের ধাক্কায় এক কৃষক নিহত মোরেলগঞ্জে ২৫জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে সবক প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠিত খুলনায় ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত অফিসার্স ও ফোর্সদের প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের পুরস্কার প্রদান

নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে

প্রতিবেদকের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের এই প্রথম বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হতে পারে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য সামনে রেখেই বাজেটের আকার বড় করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি থাকলেও আগামী অর্থবছরে তা সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজেটে মোট ১৩টি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন।
বাজেটে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আগামী অর্থবছরে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: জ্বালানি ও খাদ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যে খাদ্য সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধি: অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ
কর্মসংস্থান সৃষ্টি: ব্যাপক কর্মসংস্থান ও স্বকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ: ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বড় বরাদ্দের পরিকল্পনা।
উদ্যোক্তা ও এসএমই খাত: সহায়তা উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক তহবিল গঠনের উদ্যোগ।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো: নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে।
ডিজিটাল কর ও ব্যবসা সেবা: এনবিআরের কার্যক্রম অনলাইনে সম্প্রসারণ, ডিজিটাল কর রিটার্ন ও ‘বাংলাবিজ’ ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা।
স্বাস্থ্য খাত: ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ।
কর ও রাজস্ব ব্যবস্থার ডিজিটাল সংস্কার: অনলাইন কর রিটার্ন, দ্রুত কর ফেরত এবং কর বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন: বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে বরাদ্দ ও কর্মসূচির প্রতিফলন।

বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় ধরনের বরাদ্দের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর আওতা ও বরাদ্দও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্যও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার পৃথক তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হতে পারে।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া জনসেবার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রম আরও বেশি ডিজিটাল করার পাশাপাশি অনলাইনে কর রিটার্ন দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি।

এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি পূরণ, ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জ্বালানি ও সার খাতে বাড়তে থাকা ভর্তুকির চাপ সামাল দেওয়াও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে মূল চ্যালেঞ্জ

মূল্যস্ফীতি কমিয়ে জনজীবনে স্বস্তি আনা
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা
রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন
জ্বালানি ও সার খাতে ভর্তুকির চাপ সামাল দেওয়া
ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ মোকাবিলা করা

তারেক রহমান সরকারের প্রথম বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের ওপর। সেই সঙ্গে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বাস্তবসম্মত রূপরেখা কতটা কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে সবার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ