নীলফামারীর সৈয়দপুরে শ্রম কল্যান কেন্দ্রে চিকিৎসক পদ শুন্য ও পর্যাপ্ত ঔষধ না পাওয়ায় শ্রমিকরা পাচ্ছেন না চিকিৎসা সেবা। প্রায় ৩০ বছর থেকে একটি মাত্র চিকিৎসক থাকায় পিছিয়ে পড়েছে সেবা কার্যক্রম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে সৈয়দপুর পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের উপজেলা পরিষদের ৫০ গজ দক্ষিণ পুর্ব দিকে ৪২ শতক জমির উপর শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা ও বিনোদনের জন্য শ্রম কল্যান কেন্দ্র গড়ে উঠে। ওইসময় এ কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার ও ৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। শুরু থেকেই মেডিকেল অফিসার সহ পর্যাপ্ত ঔষধ দিয়ে শ্রমিক কল্যানে কাজ করা হলেও বর্তমানে তা খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।
দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে স্হায়ী ভাবে নিয়মিত ডাক্তার বসার কথা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ওই পদে ৫ বছর কন্ট্রাকের মাধ্যমে ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অস্থায়ী নিয়োগকৃত ডাক্তারের কারনে অনেক শ্রমিক চিকিৎসা সেবা নিতেও পারছেন না। অপরদিকে সেবার মান একেবারেই নিম্নমানের।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মরিয়ম নামের এক রুগী সহ অনেকেই জানায়,সৈয়দপুরে শ্রমিকদের জন্য একটি মাত্র সেবা কেন্দ্র হলো শ্রম কল্যান কেন্দ্র। কেন্দ্রটি গড়ে উঠার পর প্রায ৫/৬ বছর প্রতিদিন শত শত রোগী সেবা নিতে আসছিল কিন্তু বর্তমানে রোগীর সংখ্যা ১০ শতাংশে নেমেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রম কল্যান কেন্দ্রের একটি সুত্র জানায়, এমনিতেই সেবা কেন্দ্রটিতে কন্ট্রাকের মাধ্যমে ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে সরকার প্রতিবছর ঔষধের জন্য যে পরিমান টাকা বরাদ্দ দেয়,সেই বরাদ্দের টাকায় ঔষধ ক্রয় করা হয় না। ফলে সেবা নিতে আসা অনেক রোগী ঔষধ না পেয়ে পরবর্তীতে আর সেবা নিতে আসে না ওই শ্রম কল্যান কেন্দ্রে। সরকার ওই কেন্দ্রের কার্যক্রম তদারকি তেমন একটা না করার ফলে মুখ থুবরে পড়েছে সেবার কার্যক্রম।
এবিষয়ে জানতে শ্রম কল্যান কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার না পেয়ে কথা হয় শ্রম কল্যান সংগঠক আব্দুল মালেকের সাথে, তিনি বলেন,এ কেন্দ্রে জনবলের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ মেডিকেল অফিসার নেই।শুন্য এই পদের জন্য ৫ বছর মেয়াদে একজন ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে স্হায়ী ডাক্তার নিয়োগ না থাকায় রোগীর সংখ্যা যেমন কমে যাচ্ছে, তেমনি ঔষধের জন্য বরাদ্দ ও দেয়া হচ্ছে কম। স্হায়ী ভাবে ডাক্তার নিয়োগ ও পর্যাপ্ত ঔষধ বরাদ্দ পাওয়া গেলে রোগীর সংখ্যা অনেক গুন বেড়ে যেতো।
এ প্রসংগে অনেক রোগী বলেন, সরকার এই শ্রম কল্যান কেন্দ্রে রোগীর জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ বরাদ্দ দিলেও রোগীদের তেমন একটা ঔষধ দেয়া হয় না।
এবিষয়ে রংপুর শ্রম কল্যান কেন্দ্রের ডিজি সাদেকুজ্জামান জানান,ওই কেন্দ্রের সমস্যা জানতে পরিদর্শনে গেলে আমাকে কোন সমস্যার কথা বলা হয় না। শ্রমিকরা যে পর্যাপ্ত ঔষধ ও সেবা পাচ্ছেন না তা আমার জানা ছিল না। শ্রম কল্যান কেন্দ্রে কি কি সমস্যা আছে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্হা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।