মানিকগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ ১০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এই রায় প্রদান করেন। রায়ের সময় অভিযুক্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলায় ২৪ আসামির মধ্যে চার ভাইসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। আদালত তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাদেরও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শামীম ও হাবু মিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মজনু মিয়াকে ১ বছর, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ৬ মাস এবং সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার জানান, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইরের গোবিন্দলে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।