রায়গঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের পূর্বপাইকড়া গ্রামে বিধবাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পাইকড়া গ্রামের জনৈক মৃত মোহর সেখ এর ছেলে হামেদ আলী সেখ তিন মেয়ে জেলেমন, কর্পূল ও ময়জানকে ওয়ারিশ বিদ্যমানে মৃত্যু বরণ করে। ময়জানের স্বামী অনেক পূর্বেই মৃত্যু বরন করায় তার মেয়ে গোলকজান, নাতী আলমগীর ও নাতনী অঞ্জনাকে নিয়ে ময়জান তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসবাসরত অবস্থায় হামেদ এর আপন ভাইয়ের বংশধর ছুরমান আলী গং ময়জানের পৈত্রিক সম্পত্তি বেদখলের পায়তারা করলে উক্ত বিষয়ে বিগত ১০/০৪/২০১২ তারিখে একটি শালিস বৈঠক হয়। ছুরমান আলী গং শালিস না মেনে ও সম্পত্তির কোন দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন না করে ময়জানদের বিতাড়িত করার পায়তারা করে। ময়জান তার পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার্থে বাটোয়ারা মামলা নং ৯৪/২০২৩ দায়ের করে। যাহা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন। উক্ত অবস্থায় ময়জানের মেয়ে গোলকজানের স্বামী মুকুল সেখ (নব মুসলিম) গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করলে ছুরমান আলী গং উক্ত আত্মহত্যার বিষয়কে হত্যায় রুপান্তরিত ও ময়জানদের বিতাড়িত ও বাটোয়ারা মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার প্রত্যয়ে মুকুল সেখ এর পৈত্রিক পরিবারের লোকজনদের দিয়ে গোলকজানদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে কোর্ট পিটিশন মামলা নং ১৯৫/২০২৫ (রায়গঞ্জ), ধারাঃ ৩০২/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করে। যা বিজ্ঞ আদালতের আদেশ মূলে থানায় তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত অভিযোগের কোন সত্যতা না পেয়ে ও মুকুল সেখের মৃতদেহের ময়না তদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যা প্রমানিত হওয়ায় মামলাটিতে বিজ্ঞ আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। এতেও ক্ষেন্ত না হয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার ঘটাতে থাকে। প্রকৃতপক্ষে ছুরমান আলী গংদের প্ররোচনায় ও মানষিক অত্যাচারে মুকুল সেখ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় মর্মে আলমগীরের পরিবার সূত্রে জানা যায়। কিন্তু আলমগীরদের লোকজন না থাকায় ও ষড়যন্ত্রের কারনে উক্ত বিষয়ে মামলা করতে সাহস পায় না বলে আলমগীর জানায়। বিভিন্ন হুমকী ধামকীর কারনে আলমগীর বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় জিডি নং ৯২, তারিখঃ ০২/০৪/২০২৬ইং মুলে জিডি করে। আলমগীর তার বাড়ী সংস্কারের কাজ শুরু করলে ছুরমান আলী গং বাধা প্রদান ও মারপিট করলে আলমগীর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০৬, তারিখঃ ১০ এপ্রিল, ২০২৬। তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত মামলায় ছুরমান গংদের দুই জনকে গ্রেফতার পূর্বক আদালতে সোপর্দ্দ করেন। এতে ছুরমান আলী গং আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং জামিনে এসে বিভিন্ন হুমকী ধামকী প্রদান করলে আলমগীর ও তার বোন বাদী হয়ে আদালতে পৃথক পৃথক ভাবে এমআর মামলা নং ১৭৩/২৬ (১৪৪/১৪৫ দঃ বিঃ) এবং ১৯৭/২০২৬(খ) (ফৌঃ কাঃ বিঃ ১০৭/১১৭(৩) দায়ের করেন। ছুরমান আলী গংও আলমগীরদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও বর্নিত মামলা গুলো ভিন্নখতে প্রবাহিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার মানষে ২১৪/২০২৬(খ) (ফৌঃ কাঃ বিঃ ১০৭/১১৭(৩) দায়ের করেন। মামলাগুলি আদালতে বিচারাধীন। এমতাবস্থায় ছুরমান আলী গং আলমগীরদের উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ও একঘরে করার মানষে পায়ে চলাচলের রাস্তা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সরেজমিনে ও কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী জায়গা আলমগীরের মামা রফিকুল ইসলামের। যা ছুরমান আলী গং অবৈধ ভাবে জোর পূর্বক দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখলে আছে। উক্ত গ্রামের মাতব্বর জয়নাল, লতিফ, কুদ্দুস, জয়নাল(২)সহ কতিপয় লোকজন অদালিলিক অনৈতিক কার্য্য কলাপের মিথ্যা অভিযোগ এনে মৌখিক ভাবে গোলকজানদের সমাজচ্যুত করে। যার কোন দালিলিক প্রমান পাওয়া যায়নি। হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে ছুরমান আলী গং গণস্বাক্ষর গ্রহণ করছে বলে জানা যায়। এব্যাপারে সরেজমিনে গিয়ে ছুরমানগংদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা এর কোন সদোত্তর উপস্থাপন করতে পারেনি। বর্তমানে বিধবা ময়জান তার পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর ও হুমকীর মুখে দিনাপাত করছে।