বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক ধারা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠানোর জন্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারিকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের জবাবে রাষ্ট্রপতি জানান যে, তিনি তার সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরে আগ্রহী।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান অভিন্ন ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব ঐতিহাসিক বন্ধনই দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জনগণের মধ্যকার যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তাতে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়া বৈঠকে ওষুধশিল্প, সিরামিকস ও কৃষি খাতের উন্নয়ন নিয়েও আলোকপাত করা হয়।
হাইকমিশনার ইমরান হায়দার আলোচনার সময় চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতির কথা রাষ্ট্রপতিকে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে চিকিৎসা পর্যটন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পাকিস্তানের চিকিৎসকরা এখানে এসে স্থানীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যা রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’-এর আওতায় প্রায় ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের গুরুত্ব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। হাইকমিশনার জানান, ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন রুট চালুর বিষয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদা রয়েছে। এর জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আরও শক্তিশালী করতে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। হাইকমিশনার হায়দার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব। তিনি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে পাকিস্তানের নেতৃত্বের অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। সবশেষে দুই পক্ষই চলমান ইতিবাচক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ ও ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।