রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার বলয়ে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে এই জ্বালানি প্রকল্প সাইটে নেওয়া হয়। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সেনাবাহিনীর নিশ্ছিদ্র তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে প্রথম ইউনিটের জন্য একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য দুটি চালান পৌঁছেছিল। এখন পর্যন্ত মোট চারটি চালান প্রকল্পস্থলে পৌঁছালো। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো ফ্লাইটে ১৬৩টি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং বা পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য দুটি কার্গোতে ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট নয়টি চালানে এই জ্বালানি আসার কথা রয়েছে।
রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই কেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ইতিমধ্যে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রমের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। গত বৃহস্পতিবার বায়েরার চেয়ারম্যান এই কার্যক্রম শুরুর ছাড়পত্র দেন। এই পর্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে টারবাইন-জেনারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সব যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান প্রথম ইউনিটে স্টেজ-সি কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরবর্তী ধাপে প্রথম ইউনিটের জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাকে প্রকৌশল ভাষায় ‘সিনক্রোনাইজেশন’ বলা হয়। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাসেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত এই কার্যক্রমটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় শর্তপূরণ এবং সব ধরনের অনুমোদনের সাপেক্ষে সম্পন্ন হবে।