রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভের উত্তাপ নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অক্টোবরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৮৭ কোটি ডলার সাবেক বিমান কর্মকর্তা সাউরি মৃত্যুতে দিশার চার দিনের রিমান্ড দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৮, নতুন রোগী ১৯২৯ আমেরিকার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব ট্রাম্পের সামরিক হুমকির পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মোজতবা খামেনি পুলিশ: মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী চক্র যুক্ত হতে পারে শিক্ষামন্ত্রী: শিগগিরই পে-স্কেলের আওতায় আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ডিসেম্বরের আগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনা কম অমৃতসরের মন্দিরে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

যশোর বোর্ডে এইচএসসির পাশের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে

প্রতিবেদকের নাম

চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে পাশের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। এ বোর্ডে এবার পাশের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা গতবারের তুলনায় ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ কম। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও। এ বছর মোট ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ২ হাজার ৭৬৭ জন কম।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, পাশের হার ও জিপিএ-৫ কমলেও একে ‘ফল বিপর্যয়’ হিসেবে দেখতে নারাজ বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, খাতা মূল্যায়নের সঠিক পদ্ধতির কারণেই প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে। शिक्षকরা যেভাবে উত্তরপত্র পেয়েছেন, সেভাবেই মূল্যায়ন করেছেন। সচিব বলেন, “আমরা গুণগত মান চাই, সংখ্যা নয়। যারা নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী থাকবে, তারাই ভালো ফলাফল অর্জন করবে।” তিনি বলেন, আমরা কোয়ালিটি চাই, কোয়ান্টিটি নয়।

পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও বিষয়ভিত্তিক পাশের হার

এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০টি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৪০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে পাশ করেছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের কারণে ৪৩ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়।

বোর্ড সচিব জানান, বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে বিশেষ করে ইংরেজি ও আইসিটিতে শিক্ষার্থীদের খারাপ পারফরম্যান্স সামগ্রিক পাশের হারে প্রভাব ফেলেছে। এ বছর ইংরেজিতে পাশের হার ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং আইসিটিতে ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, রসায়নে ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং অ্যাকাউন্টিংয়ে ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। ইংরেজি বিষয়ে দুর্বলতা কাটাতে আন্তঃবোর্ডের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ক্লাসে আলাদা নজর দেওয়ার বিষয়ে বোর্ডের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সচিব। এ ছাড়া আইসিটিতেও শিক্ষার্থীরা বেশ খারাপ করেছে।

জেলাভিত্তিক পাশের হারের চিত্র

যশোর বোর্ডের অধীনে ১০টি জেলার মধ্যে পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে যশোর জেলা। এই জেলায় পাশের হার ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে খুলনা (৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা (৪৬ দশমিক ১৩ শতাংশ)।

অন্যান্য জেলার মধ্যে কুষ্টিয়ায় পাশের হার ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, সাতক্ষীরায় ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ঝিনাইদহে ৪১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মেহেরপুরে ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, বাগেরহাটে ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, মাগুরায় ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং সর্বনিম্নে রয়েছে নড়াইল জেলা, যেখানে পাশের হার ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

শতভাগ ও শূন্য পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

এ বছর বোর্ডে শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩টিতে, যা গত বছর ছিল ৫টি। শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (পরীক্ষার্থী ৪৩ জন), খুলনার খালিশপুর নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ৬১ জন) এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ২৩ জন)।

অন্যদিকে এ বছর শতভাগ ফেল করা বা শূন্য পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৬টি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২০টি। শূন্য পাশ করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পূর্বে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের (শোকজ) ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে উল্লেখ করে সচিব জানান, এবার এসব প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নবায়ন স্থগিত বা কঠোর শর্ত দেওয়া হবে। খুলনার ৬টি প্রতিষ্ঠানসহ শূন্য পাশ করা ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো যেমন গতবারের সংখ্যা ছিল ২০, এবার ১৬।

  1. কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ (১ জন পরীক্ষার্থী); এ ছাড়া খুলনা জেলার ডুমুরিয়ার মডেল মহিলা কলেজ (৩), খুলনা সদরের ইন্ডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ (১১), কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির (৩), কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৭), রূপসা উপজেলার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল (১) ও খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২) এবং কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজ (৮)
  2. মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্ডি কলেজ (১৫ জন পরীক্ষার্থী)
  3. ও মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী)
  4. সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজ (৩ জন পরীক্ষার্থী)
  5. ও সাতক্ষীরার এ কে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ (৪৯ জন পরীক্ষার্থী)
  6. এ ছাড়া মেহেরপুরের মরকা জাগরণ কলেজ (১), ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ (১৯), যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সবুজপল্লী কলেজ (৭)
  7. এবং নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট (৪৩)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ