সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাজেকে দুই সংগঠনের গোলাগুলি, টানা দ্বিতীয় দিনে আতঙ্কে স্থানীয়রা ১০ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের তফসিল পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভের উত্তাপ নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অক্টোবরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৮৭ কোটি ডলার সাবেক বিমান কর্মকর্তা সাউরি মৃত্যুতে দিশার চার দিনের রিমান্ড দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৮, নতুন রোগী ১৯২৯ আমেরিকার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব ট্রাম্পের সামরিক হুমকির পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মোজতবা খামেনি পুলিশ: মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী চক্র যুক্ত হতে পারে শিক্ষামন্ত্রী: শিগগিরই পে-স্কেলের আওতায় আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

লংমার্চ নয়, আলোচনায় সমস্যার সমাধান চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

প্রতিবেদকের নাম

রাজনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৩১ অক্টোবর) জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক একটি সেমিনারে যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, লংমার্চ বা রাজপথের আন্দোলনের চেয়ে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই দেশের বিদ্যমান সংকট ও সংবিধান সংস্কারের সমাধান সম্ভব। সেগুলো পরবর্তী সময়ে নোটিফিকেশন দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে যেন আর কখনোই ‘জুলাই জাদুঘর’ গড়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য রাজনৈতিক ঐক্য ও বিরোধী দলগুলোর সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে এবং স্বৈরশাসন থেকে উত্তরণের পথ সুগম করতে সব দলকেই জাতীয় ইস্যুতে একমত হতে হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও সংস্কার নিয়ে আলোচনার জন্য কোনো বিকল্প নেই এবং বিরোধী দল চাইলে আলোচনায় বসেই সব দাবি তুলে ধরতে পারে। এজন্য রাজনৈতিক ঐক্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

রাষ্ট্রীয় উচ্চকক্ষ বা সিনেট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উচ্চকক্ষ যদি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে গঠন করা হয়, তবে এর কর্মপরিধি ও ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। অনেক আলোচক এই বিষয়টি সামনে এনেছেন। তিনি জানান, উচ্চকক্ষটি যদি অনির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে হয়, তবে তাদের নির্বাচিত সিনেটের মতো ক্ষমতা দেওয়া সমীচীন কি না, সেটি আলোচনার বিষয়। এ ধরনের বিষয়ে বিরোধীদের মতামত ও সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কাম্য। এভাবে আদেশ দিয়ে সংবিধানকে স্পর্শ করা যায় কি না, সেটি প্রশ্ন।

উচ্চকক্ষের সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নজরুল ইসলামের একটি প্রস্তাবের সমর্থন জানিয়ে বলেন, উচ্চকক্ষের সদস্যদের গাড়ি, বাড়ি বা বিশেষ বেতন-ভাতার প্রয়োজন নেই। আমার ভাই (আসিফ নজরুল) একটি আদেশ পাস করে দিয়েছিলেন।

এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় উচ্চকক্ষ যুক্ত হলে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হতে পারে। নিম্নকক্ষ থেকে পাঠানো কোনো আইন কত দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে বা কোন কোন সংশোধনী সেখানে পাঠানো যাবে, সেসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করতে হবে। নতুবা সংসদীয় ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেবে, যা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে। যেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেই নোট অব ডিসেন্টগুলো শিথিল করতে হলে আলোচনা করতে হবে। নিম্নকক্ষে পাস হওয়া আইন পর্যালোচনা বা অনুমোদনের জন্য উচ্চকক্ষে পাঠানো হলে, কত দিন তারা সেটি নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন এবং কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বা ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি বিচার বিভাগীয় একটি তাত্ত্বিক ধারণা। এর ব্যাপ্তি কতটুকু বা কোন কোন ধারা সংশোধনযোগ্য, তা নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা জরুরি। এছাড়া সংবিধান প্রণয়নের আগে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বা প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন আদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিলে স্বাক্ষর হলে সেটি অঙ্গীকারে পরিণত হয়, যা লংমার্চের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় পূর্ণ বিশ্বাস রাখে। বিচারকরা স্বাধীনভাবে তাদের কাজ পরিচালনা করছেন এবং জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশ পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি। রাজনৈতিক বিভাজন দূরে সরিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার মাধ্যমে একটি কার্যকর সংবিধান ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের পথ প্রশস্ত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ