যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাউন্সিলে আসন্ন মেয়র নির্বাচনে লেবার পার্টি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে টাওয়ার হ্যামলেটসে কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম এবং নিউহামে সাবেক কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেনকে মেয়র পদে লড়তে মনোনীত করা হয়েছে। বাংলাদেশি ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার কৌশল হিসেবে লেবার পার্টি তাদের দলের সক্রিয় ও পরিচিত মুখদের ওপরই আস্থা রেখেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় কমিউনিটির রাজনীতিতে দলটির বর্তমান অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে।
নির্বাচনের সমীকরণকে জটিল করে তুলছে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মতপার্থক্য। এছাড়া যুক্তরাজ্যজুড়ে দলটির বিভিন্ন নীতিগত ব্যর্থতা এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে নেওয়া অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, যা ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। টাওয়ার হ্যামলেটসে লেবার প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান। লুৎফুর রহমান বিতর্কিত হলেও বাংলাদেশি ও সোমালি কমিউনিটিতে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং তার একটি শক্তিশালী ভোটব্যাংক আছে। অন্যদিকে, সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কাউন্সিলর হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে কোনো বিতর্ক নেই। লুৎফুর রহমানবিরোধী শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে সিরাজুল ইসলামের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাচনী পরিবেশ এখনো বেশ অনিশ্চিত। শেষ মুহূর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা গ্রিন ও লিবডেম পার্টির প্রার্থীরা ভোটের মাঠে কী ভূমিকা রাখেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। এমনকি সরকারি কোনো হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। অন্যদিকে নিউহামের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে দীর্ঘদিন মেয়রের দায়িত্ব পালন করা লেবার নেত্রী রোকসানা ফিয়াজের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দলের জনসমর্থনে ভাটা পড়েছে। এক সময়ের নিরাপদ এই ভোটব্যাংক এখন কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও, টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো এখানে লুৎফুর রহমানের মতো শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।
নিউহামে বাংলাদেশি ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে পারলে ফরহাদ হোসেনের প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি মেয়র হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে এখনই কিছু বলা কঠিন, তবে লেবার পার্টির প্রথাগত ভোটব্যাংকের ওপর ভরসা করে দলটি লন্ডনের এই দুই কাউন্সিলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেয়র পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহাম—উভয় জায়গাতেই নির্বাচনের ফলাফল স্থানীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।