চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত হওয়া অস্ত্র ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) শেষ তিন মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত এক হাজার ৩২৬টি অস্ত্রের হদিস এখনো মেলেনি। এসব অস্ত্র কার কাছে আছে, কোথায় রাখা হয়েছে কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। রাষ্ট্রীয় এসব অস্ত্রের অবস্থান অজানা থাকায় তা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ একটি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় তারা এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘হেভি ওয়েপনস বা ভারী অস্ত্র উদ্ধারে যারা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে।’
অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী পুরস্কারের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। পিস্তল, রিভলবার ও শটগান উদ্ধারে তথ্য দিলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড ও লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেলসহ অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তাকারীদের ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান।
তথ্যদাতার নিরাপত্তার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যারা তথ্য দেবেন, তাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। পরিচয় গোপন না রাখলে কেউ তথ্য দিতে আগ্রহী হবে না, তাই এটি আমাদের বিশেষ অগ্রাধিকার।’
৫ আগস্টের পর থেকে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, সেগুলোকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা এসব অস্ত্র জমা দেননি, তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। এছাড়া অস্ত্র বিদেশে পাচার হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সীমানা পেরিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের পুলিশ অন্য দেশে গিয়ে অভিযান চালাতে পারবে না। তবে দেশের ভেতরে থাকা অস্ত্রগুলো উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও প্রত্যাশিত মানে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই পুলিশ আরও দক্ষ ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করুক। অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’
চাঁদাবাজি, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং কৌশলগতভাবে আমরা সফল হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।’ প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্ষতিগ্রস্ত থানাগুলো আবার সচল হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘পুলিশ যেন জনপ্রত্যাশিত, জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হয়, ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়, সেজন্য আমরা অনেক বক্তব্য দিয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশা করি, ইনশা আল্লাহ আমরা ক্রমান্বয়ে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারবো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে পারবো, আশা করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট নিয়ে তারা এরইমধ্যে কাজে নেমে গিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘এর বাইরে সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত হওয়া টিয়ারগ্যাস শেল, অন্যান্য যেগুলো অস্ত্র আছে—যেগুলো লুট হয়েছে, এগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য যারা সহযোগিতা করবে, সংবাদ দেবে, তাদেরকেও আমরা ১০ হাজার, ১৫ হাজার, ২০ হাজার টাকা করে ক্ষেত্রমতে পুরস্কৃত করবো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা চালু আছে, এগুলো জোরদার করার জন্য আমরা আজকে আরও পরামর্শ দিয়েছি এবং কিছু কৌশল প্রণয়ন করেছি, যেটা এখানে আমরা বলা ঠিক হবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বাভাবিকভাবেই, সেটা তো দেখার বিষয়।