রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন

সৈয়দপুর শহরে নাগরিক সুবিধার্থে উন্নয়ন কাজ অব্যাহত

সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তা সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ সহ দ্রুত পানি নিষ্কাসনের জন্য সকল ড্রেন পরিস্কার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।

২০২৪ এর পরপরই একাধিক রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দে ৭ কিলোমিটারের ২ টি সড়ক ও মাষ্টার ড্রেনের নির্মান কাজ চলমান রয়েছে । শহরে যানজট নিরসনে পৌরকর্তৃপক্ষ সড়কের দুই পাশে গড়া অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করতে মাইকিং সহ লাল ঝান্ডা গেড়ে দিয়েছে। এছাড়া শহরের প্রায় প্রতিটি রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পৌরকর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের এসব কাজের সমাপ্তি হলে নাগরিক সুবিধা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে জানান পৌরকর্তৃপক্ষ।

সূত্রটি বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শাসনামলে সৈয়দপুর পৌরসভার উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এতে করে পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে নাগরিক সেবা তলানিতে গিয়ে পৌঁছায়। ফলে ক্ষুব্ধ শহরবাসী এলাকার রাস্তা ঘাট উন্নয়নের দাবিতে মিছিল, মানববন্দন, পৌরসভা ঘেরাও ও সভা-সমাবেশ পর্যন্ত করে।

তারপরও ওই সময় পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোন প্রতিকার মেলেনি। তখন বলা হয়েছিল বাজেট নেই, বাজেট এলেই নাগরিক সুবিধার্থে রাস্তাঘাট, ড্রেন সংস্কার, নির্মাণ ও যানজট নিরসনে কাজ করা হবে। ২০২৪ শে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে দৃশ্যপট পাল্টে যাওয়ার আশংকা করেন স্হানীয়রা। কিন্তু ওই সময় ও কোন উন্নয়ন কাজের দৃশ্য চোখে পড়ে নি।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ১০ দিন আগে সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ্ ফাতিহা তাকলিমা। তিনি দায়িত্ব পেয়ে পৌরসভার পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে রাজনীতিক, সুধিজন, প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। ওই বৈঠকে শহরের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন অনেকে।

দেওয়া হয় নানা পরামর্শ। পরে ওইসব পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে শহরের ১৫টি ওয়ার্ড জুড়ে শুরু হয় রাস্তা সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ কাজ। এর আগে প্রায় ২৯ কোটি টাকা ব্যায়ে শহরের মিস্ত্রি পাড়ায় নির্মাণ করা হয় আধুনিক পৌর মার্কেট। বর্তমানে শুরু হয় প্রায় ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দে শহরের তামান্না সিনেমা হল থেকে ওয়াবদা মোড় পর্যন্ত ও কাড়ি হাটি রোড থেকে বসুনিয়া মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও মাষ্টার ড্রেন নির্মান। একই সাথে শুরু হয় শহরে যানজট নিরসনে সড়কের পাশে গড়া অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ।

স্হানীয়রা বলেন, ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর পৌরসভায় কোন মেয়র ও কাউন্সিল নেই। একারনে পৌরসভার উন্নয়নে দায়িত্ব পালন করছেন প্রশাসক ফারাহ্ ফাতিহা তাকলিমা সহ হিসাবরক্ষক আবু তাহের, কর আদায় কর্মকর্তা সুজন শাহ, পানি শাখা কর্মকর্তা মোকছেদ সরকার সহ সহকারী প্রকৌশলী আবদুল খালেক।

তাঁরা বলেন, বিগত দিনে পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়র থাকার পরও সৈয়দপুর শহরে কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। কিন্তু পৌর প্রশাসক,সহ পৌরসভার ৪ কর্মকর্তার প্রচেষ্টায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।

পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন, কাজগুলোর গুণগত মান ঠিক রাখতে প্রকল্প এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। যাতে প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে কোন প্রশ্ন না ওঠে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী জানান, শহরবাসীর সুবিধার্থে শতভাগ উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে মানুষের যাতায়াত ও পানি নিষ্কাশনের মত সমস্যার নিরসন হবে। আমরা নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং উন্নত পৌরসভা গড়ে তুলতে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

২১ জুন রবিবার এ ব্যাপারে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ্ ফাতিহা তাকলিমা বলেন, সৈয়দপুর পৌরসভার উন্নয়ন স্বল্প সময়ে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি সৈয়দপুর পৌর পরিষদ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই ৫০ শতাংশের বেশি উন্নয়ন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ