যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। চলমান এই সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত হবে। এতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন। খবর আল জাজিরার।
তবে শুক্রবার (১৯ জুন) নতুন করে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় ১৬ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কফর রেমান এলাকায় এক লেবানিজ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, টাইর জেলার বারিশ গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। পশ্চিম বেকা অঞ্চলের সোহমর এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় আরও চারজন নিহত এবং একজন আহত হন। সাইদা জেলার কানারিত এলাকায় আরেক হামলায় সাতজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই ইসরায়েলি হামলায় ৮৩ জন নিহত এবং ১৪১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দা।
আল জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি পেট জানান, শনিবার মধ্যরাতের পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি লেবানিজ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও হতাহত হয়েছেন।
এদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ এলাকার কাছে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ তাদের অবস্থানের দিকে ৫০টির বেশি রকেট ও প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে, যা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে অভিযানের সময় তাদের আরও এক সেনা নিহত হয়েছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর থেকে নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা পাঁচে দাঁড়িয়েছে।
এরই মধ্যে আগামী ২৩ ও ২৫ জুন ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আলোচনায় হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থায়ী সমাধান নিয়ে সংশয় রয়েছে।
লেবাননের পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধি আলী ফাইয়াদ বলেছেন, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনা অবস্থান বজায় থাকলে যুদ্ধবিরতির কোনো অর্থ নেই। তিনি বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে কোনো আপস হবে না এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।