রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদীর মাধবদীতে কারখানার (মাসুম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল) ধোঁয়া ও শব্দদূষণের অভিযোগ, এলাকাবাসীর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যেসব দল বিদায় নিয়েছে জর্ডান ম্যাচের আগে সুখবর পেল আর্জেন্টিনা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার দাবি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার শঙ্কা ছয় দিনের প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু কেপ ভার্দের রূপকথার যাত্রা অব্যাহত, নকআউটে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী আটককেন্দ্রে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জাতিসংঘের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রের্কড ৪৩ বস্তা টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী আটককেন্দ্রে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জাতিসংঘের

নিউজডেস্ক ঃ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী আটককেন্দ্রগুলোতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এসব কেন্দ্রে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, এসব মৃত্যুর ঘটনায় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, “আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেই নিশ্চয়তাও নিশ্চিত করতে হবে।”

মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসী আটককেন্দ্রগুলোতে পরিকল্পিত অবহেলা, অমানবিক পরিবেশ এবং নানা ধরনের নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।
গণহারে অভিবাসী বহিষ্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত নতুন নতুন অভিবাসী আটককেন্দ্র স্থাপন করছে। এর মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্র বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসনের আমলেই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর দৈনিক গ্রেপ্তার ও আটক হার, চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ বাস্তবায়নসহ সব সূচকে আগের যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় সর্বোচ্চ।

গত ৪ জুন লুইজিয়ানার একটি আটককেন্দ্রে জর্জিয়ার নাগরিক মামুকা আর্তমেলাদজের মৃত্যুর পর চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯ জনে। এর তুলনায় গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৩ এবং ২০২৪ সালে ছিল ১১।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ চলতি মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, আইসি হেফাজতে মৃত্যুর হার এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। সংস্থাটির মতে, এই হার বাইডেন প্রশাসনের সময়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় আড়াই গুণেরও বেশি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আটক অবস্থায় মারা যাওয়া ৫২ জনের বয়স ছিল ১৯ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে এবং তারা ২০টি ভিন্ন দেশের নাগরিক।

ভলকার তুর্ক তার বিবৃতিতে আটককেন্দ্রগুলোতে উদ্বেগজনক মাত্রায় বলপ্রয়োগের অভিযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালে নথিভুক্ত পাঁচটি মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্বে (সোলিটারি কনফাইনমেন্ট) রাখার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। জাতিসংঘের মতে, ১৫ দিনের বেশি সময় একাকী বন্দিত্বে রাখা নির্যাতনের একটি রূপ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এতে আত্মহত্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

ভলকার তুর্ক বলেন, এসব কারণ আটক ব্যক্তিদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং আইসি হেফাজতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল কি না সেই প্রশ্নও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ