শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা: জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি পুলিশের ৬৭ জন পরিদর্শক পদোন্নতি পেয়ে এএসপি হলেন সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টসে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী: খুলনা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চাই ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই উচিত জবাব দেবে জনগণ লাইপজিগকে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল ম্যানচেস্টার সিটি দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের প্রাণহানি সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজে নতুন রেডিও সংকেত পেলেন বিজ্ঞানীরা

নব্য জেএমবির গোপন কৌশল: পিটি ওয়েবসাইটে যোগাযোগ ও বিশেষ অ্যাপে অর্থ লেনদেন

প্রতিবেদকের নাম

সাভার এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দফায় দফায় বোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির একটি সক্রিয় চক্রের নতুন সব তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই জঙ্গি সদস্যরা নিজেদের মধ্যে গোপন যোগাযোগ রক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতামূলক ও অপ্রচলিত ডিজিটাল মাধ্যম বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে পিটি বা ‘প্রটেকটেড টেক্স’ নামের একটি ওয়েবসাইট এবং ‘ইলিমেন্ট’ নামক অ্যাপ ব্যবহার করে তারা তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে মোহাম্মদ আরিফ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আসে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত আরিফ নব্য জেএমবির একজন সক্রিয় সদস্য। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই জঙ্গি গোষ্ঠীর চলাফেরার ধরন, বোমা বহনের কৌশল এবং হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সূত্রগুলো জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আরিফসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চলাফেরার ধরনে এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। তারা সাধারণত পিঠে বড় ব্যাগ বহন করে এবং সেই ব্যাগের ভেতরেই বোমা, অস্ত্র, ছুরি ও চাপাতি লুকিয়ে রাখে। কোনো স্থানে পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়লে তারা তাৎক্ষণিকভাবে এসব অস্ত্র বা বোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার কৌশল অবলম্বন করে থাকে।

আরিফের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ব্যাগে পাঁচটি জিআই পাইপ দিয়ে তৈরি বোমা এবং তিনটি ছুরিসদৃশ বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। এছাড়া বোমা তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১টি পাইপবোমা বা আইইডি এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাভার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরিফসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পরদিন বুধবার সাভারের সাধাপুর এলাকার একটি মসজিদের মাঠ থেকে নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা একটি প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানিয়েছেন, আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন এবং মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ মিল লক্ষ্য করা গেছে। মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর থেকে পাওয়া বোমা এবং আশুলিয়ার মুদিদোকান থেকে উদ্ধার করা প্রেশার কুকার বোমা তৈরিতে একই ধরনের বিস্ফোরক, বিয়ারিং বল ও সার্কিট সুইচ ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বোমায় ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপার–অক্সাইড (টিএটিপি) নামক অত্যন্ত সংবেদনশীল বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা সামান্য তাপ বা নড়াচড়াতেই বিস্ফোরিত হতে পারে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি একই ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নব্য জেএমবির সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে বলে সিটিটিসি সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রতিটি ঘটনার তদন্তে একই পাঁচজন ব্যক্তির নাম বারবার উঠে আসছে, যারা এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছে।

তদন্ত অনুযায়ী, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন মামুন ওরফে ‘বোমারু’ মামুন। এছাড়া এই দলে শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ আরিফ, রাকিব এবং বাপ্পী সক্রিয় রয়েছেন। এর মধ্যে শেখ আল আমিন ও মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও মামুন ও বাপ্পী এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে হামলার ঘটনায় রাকিব নামের এক যুবক এক পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করেছিল। সেই ঘটনার তদন্তেও এই একই চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ঘটনাগুলোর মধ্যে গভীর সাংগঠনিক যোগসূত্র রয়েছে এবং তারা পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ