আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে ফেনীতে এক প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরে জেলা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর ফেনী ইউনিট এই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ৬৮ বছর বয়সী রৌশন আরা তাঁর নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে আকুতি জানান। তিনি ফেনী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মাহবুবুর রহমানের মা। রৌশন আরা জানান, ২০১৪ সালের ২১ মার্চ মধ্যরাতে শহরের ওয়াপদা এলাকার সরকারি বাসা থেকে র্যাব পরিচয়ে তাঁর ছেলেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি ছেলের কোনো খোঁজ পাননি।
নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে রৌশন আরা বলেন, ঘটনার সময় তিনি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে আদালতে মামলা করলেও তিনি কোনো বিচার পাননি। ১২ বছর ধরে ছেলের ছবি গলায় ঝুলিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই মা। সমাবেশে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার ছেলে জীবিত না মৃত, তা–ও আমি জানি না। যদি সে বেঁচে না থাকে, তবে যারা তাকে মেরেছে, তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।’
ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ কে এম আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রবিউল হক, মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, সাপ্তাহিক আনন্দ তারকার সম্পাদক এম মামুনুর রশিদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খন্দকার, ফেনী শাখা লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি লায়ন জাফর উল্লাহ, সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র সম্পাদক এন এন জীবন, এনজিও ফেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা কাজী সালাউদ্দিন, আমার বাংলাদেশ (এবি) যুব পার্টির সদস্যসচিব ইব্রাহিম সোহাগ এবং ফেনী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী শাহজালাল ভূঁইয়া এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকার ফেনী ইউনিটের সদস্য জাফর আহমদ ভূঁইয়া।
সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজন ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে নিখোঁজ মাহবুবুর রহমানের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান ও চাচা ওয়াহিদুর রহমানসহ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাসিক মৌলিক পত্রিকার সম্পাদক নুরুল আফসার, সাপ্তাহিক ফেনী সংবাদ–এর নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা মুহিত এবং মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চলা এই অনিশ্চয়তা ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে স্বজনরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর দীর্ঘ ১২ বছরেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।