সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, আইনানুগ আদেশ অমান্য এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কর্মরত চার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সঞ্জিত কুমার রায়, ডিএমপির সাবেক উপপুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার, সাবেক রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজ আল ফারুক। বিভাগীয় মামলার তদন্তে এই চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ ও দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলেও কেউ কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি।
বিভাগীয় কার্যক্রম শেষে চার কর্মকর্তাকেই চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হলে কমিশনও বরখাস্তের সিদ্ধান্তে সম্মতি জানায়। পরবর্তীতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি গত ২৭ আগস্ট তাদের বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সঞ্জিত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার এই বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়েছে। একইভাবে ডিএমপির সাবেক উপপুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দারের বিরুদ্ধেও কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।
সাবেক রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান ছুটি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর কাজে ফেরেননি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন এবং নোটিশের কোনো জবাব দেননি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজ আল ফারুক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটিতে গিয়ে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কয়েক দফা বিশ্রামে ছিলেন। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।