শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ: এটি নিপীড়নমূলক ভুবন তৈরির ঝুঁকি বাড়াবে মৌলভীবাজারে তরুণীর মৃত্যু: চিরকুটে লিখে গেলেন মানসিক কষ্টের কথা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ১৫০০ হাসপাতালে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না, হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার সুইজারল্যান্ডে পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় ৫ জনের প্রাণহানি বঙ্গোপসাগরে গ্যাস উত্তোলনে কোনো অদৃশ্য বাধা ছিল না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী গাড়ির লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক ইউনিট পরিদর্শনে ১০০ কেজি বারবেল তুলে ভাইরাল মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট

কিশোরগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

প্রতিবেদকের নাম

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় তিন বছরের এক শিশুকে আদর করার ছলে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম আবু বক্কর (৬৫)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। শিশুটির মায়ের দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় তাঁকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির পরিবারের ও আবু বক্করের ঘর পাশাপাশি অবস্থিত। শিশুটি তাঁকে নানা বলে সম্বোধন করত। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাড়িতে খেলার সময় আবু বক্কর শিশুটিকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যান। ওই সময় ঘরে কেউ ছিল না। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে আসে। কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে তার মায়ের কাছে আবু বক্করের নাম বলে। শিশুটির মা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান। এরপর প্রতিবেশীদের নিয়ে আবু বক্করের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আবু বক্করের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবু বক্কর দীর্ঘদিন ধরেই শিশুদের প্রতি বিকৃত আচরণ করে আসছেন। এর আগেও আশপাশের একাধিক শিশুকে আদরের ছলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে অন্তত দুটি শিশুকে (সাড়ে চার ও সাত বছর বয়সী) ঘরে নিয়ে তিনি যৌন নিপীড়ন করেছেন। তবে সামাজিক মানসম্মানের কথা চিন্তা করে আগের ঘটনাগুলোতে পুলিশে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। একজন অভিভাবক মৌখিকভাবে সতর্ক করেছিলেন এবং অন্য একজন তাঁকে মারধর করেছিলেন। কিন্তু বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় তাঁর স্বভাব পরিবর্তন হয়নি।

পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্য

  • শিশুটির মা জানান, আবু বক্করের চরিত্র সম্পর্কে তাঁরা আগে থেকেই অবগত ছিলেন, কিন্তু প্রতিবেশী হওয়ায় সব সময় চোখে চোখে রাখা সম্ভব হয়নি।
  • শিশুটির মামা বলেন, বারবার পার পেয়ে যাওয়ার কারণে আবু বক্কর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। অন্য শিশুদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করেই এবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
  • কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুদের কাছে টেনে নেওয়া ছিল আবু বক্করের একটি কৌশল।
  • পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় আবু বক্কর সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, শিশুদের আদর করতে তাঁর ভালো লাগে এবং একে যৌন হয়রানি বলা যায় না।
  • আবু বক্করের পরিবারের সদস্যরা জানান, আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ওঠায় তাঁরা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তিনি প্রতিবারই দাবি করেছেন যে তিনি কেবল আদর করার জন্যই শিশুদের কাছে ডাকেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযুক্ত আবু বক্করকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর এই বিকৃত আচরণের কারণে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এখন কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশু এমন নির্যাতনের শিকার না হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের ঘটনাগুলো জানতেন কি না, এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, না, পুলিশকে জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু আমার ঘরের এক ঘর পরই তাঁর ঘর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমার মেয়ে আমার কাছে এসে কান্না করছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সারা শরীরের অনেক স্থানে দাগ হয়ে গিয়েছিল।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে মেয়েশিশুদের কাছে টেনে নিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা মনে করেছি, এবার আর ছাড় দেওয়া যাবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছাড় পেলে হয়তো পরদিন অন্য কোনো শিশুর গায়ে হাত দেবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ