কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় তিন বছরের এক শিশুকে আদর করার ছলে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম আবু বক্কর (৬৫)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। শিশুটির মায়ের দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় তাঁকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির পরিবারের ও আবু বক্করের ঘর পাশাপাশি অবস্থিত। শিশুটি তাঁকে নানা বলে সম্বোধন করত। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাড়িতে খেলার সময় আবু বক্কর শিশুটিকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যান। ওই সময় ঘরে কেউ ছিল না। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে আসে। কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে তার মায়ের কাছে আবু বক্করের নাম বলে। শিশুটির মা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান। এরপর প্রতিবেশীদের নিয়ে আবু বক্করের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবু বক্কর দীর্ঘদিন ধরেই শিশুদের প্রতি বিকৃত আচরণ করে আসছেন। এর আগেও আশপাশের একাধিক শিশুকে আদরের ছলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে অন্তত দুটি শিশুকে (সাড়ে চার ও সাত বছর বয়সী) ঘরে নিয়ে তিনি যৌন নিপীড়ন করেছেন। তবে সামাজিক মানসম্মানের কথা চিন্তা করে আগের ঘটনাগুলোতে পুলিশে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। একজন অভিভাবক মৌখিকভাবে সতর্ক করেছিলেন এবং অন্য একজন তাঁকে মারধর করেছিলেন। কিন্তু বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় তাঁর স্বভাব পরিবর্তন হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযুক্ত আবু বক্করকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর এই বিকৃত আচরণের কারণে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এখন কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশু এমন নির্যাতনের শিকার না হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের ঘটনাগুলো জানতেন কি না, এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, না, পুলিশকে জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু আমার ঘরের এক ঘর পরই তাঁর ঘর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমার মেয়ে আমার কাছে এসে কান্না করছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সারা শরীরের অনেক স্থানে দাগ হয়ে গিয়েছিল।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে মেয়েশিশুদের কাছে টেনে নিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা মনে করেছি, এবার আর ছাড় দেওয়া যাবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছাড় পেলে হয়তো পরদিন অন্য কোনো শিশুর গায়ে হাত দেবে।