বিগত ১৭ বছরে দেশে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারা বন্ধ করে বর্তমান সরকার এখন জনগণের কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে বিদেশি সহায়তার সঠিক ব্যবহারের অভাব ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ধনী দেশগুলোও তাদের আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে, যা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গত ১৭ বছরের সব অনিয়ম ও দুর্নীতি বর্তমান সরকার কঠোর হাতে বন্ধ করেছে।
ইউনিসেফের সঙ্গে এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া। মন্ত্রী বলেন, সুপেয় পানি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নদীগুলোর পানি শুকিয়ে যাওয়া এবং উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরের জেলাগুলোতে মরুভূমি সদৃশ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে, নদীর পানি কমে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে, যা সুপেয় পানির সংকটকে প্রকট করে তুলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ইউনিসেফের সঙ্গে কথা বলেছি, একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপরে। আমাদের যে উজান, নদীর উজানগুলোতে পানি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আবার এর দ্বিতীয় একটি প্রভাব রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে। কারণ সমুদ্রে যে আমাদের নদীবিধৌত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পানিগুলো বঙ্গোপসাগরে যায়, সেই পানির পরিমাণ যদি কমে যায়, তার ফলে সমুদ্রের পানির যে লবণাক্ততা, সেই লবণাক্ততা তখন ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
ড. মঈন খান বলেন, পানি মানুষের জীবনের জন্য যেমন অপরিহার্য, দূষিত পানি তেমনি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ১৮ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা চলছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করেছি।
এদিনের সভায় ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ছাড়াও বিশ্বব্যাংক এবং ওয়াটার এইড-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান, শুধু একটি সংস্থা নয়, বরং জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থায়ন নিশ্চিত করে মানুষের দোরগোড়ায় নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে কাজ করছে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়। সাক্ষাৎ শেষে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।